বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ

bangabandu_gold_cup_bd_vs_baharainসেমিফাইনালে তারুণ্যনির্ভর বাহরাইনের কাছে হেরে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল থেকে ছিটকে গেল তারকাসমৃদ্ধ দল বাংলাদেশ। সোমবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিতে বাহরাইনের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের দেশ।

ঘরের মাঠের আসরে গতবারের রানার্সআপরা এবার বিদায় নিল সেমিফাইনালেই। ফাইনালে খেলবে ভিনদেশি দুই দল, মামুনুল-হেমন্তরা শুধুই দর্শক!

ফাইনালের মঞ্চে বাহরাইনের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, মালদ্বীপ না নেপাল-তা চূড়ান্ত হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। মালদ্বীপ ও নেপালের ম্যাচটি মাঠে গড়াবে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায়।

চোটের কারণে প্রথম সেমিফাইনালে খেলতে পারেনি গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। গ্রুপ পর্বের শেষ দুটি ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন তিনি। যশোরে লঙ্কানদের বিপক্ষে জিতলেও গোলপোস্টের নিচে শহিদুল আলম সোহেলের পারফরম্যান্সে হতাশ ছিলেন সবাই।

সেমিতে সেই সোহেলকেই প্রথম একাদশে দেখে সবার মনে শঙ্কা জেগেছিল, আজও না আবার ভুল করেন তিনি! শঙ্কাটাই যেন সত্যি প্রমাণ করলেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের এ গোলরক্ষক।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে শিশুসুলভ ভুলটি করে বসেন সোহেল। ডান-প্রান্ত দিয়ে বাহরাইনের আহমেদ আলথুয়ানিকির মাইনাসে লাফিয়ে উঠে বল ফেরান তিনি। সামনে পড়া বল হেডের মাধ্যমে গোল করেন ইব্রাহিম আলহুতি।

তারপরও ওই একটি ভুলেই যে সব শেষ হবে, তা কিন্তু নয়! প্রতিপক্ষ বাহরাইনের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২০-২১ বছর। অনেকটা তৃতীয় সারির দল নিয়ে এসেছে তারা! সেই বাহরাইনের বিপক্ষে নিরঙ্কুশ ফেভারিট বাংলাদেশই। অভিজ্ঞতা ও শারীরিক সক্ষমতা- সব বিবেচনায়ই এগিয়ে ছিল একেএম মারুফুল হকের শিষ্যরা।

অথচ এই বাহরাইনের সঙ্গেই পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ জাতীয় দল। যশোরে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল ১-১ গোলে ড্র করেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির সঙ্গে। আর মামুনুলরা পেয়েছেন লজ্জা!

সোহেলের ওই ভুলের আগে গোলের কয়েকটি সুযোগও পায় বাংলাদেশ; কিন্তু স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় গোলের উদযাপন করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ১৭ মিনিটে পরপর দুটি কর্নার আদায় করেন মামুনুলরা। আর ম্যাচের ২৪ মিনিটে হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস তো দুটি সুযোগ সৃষ্টি করেন। ডান প্রান্ত দিয়ে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে যে মাইনাসটি করেন হেমন্ত, ডি-বক্সের মধ্যে কেউ পা স্পর্শ করলেই বল চলে যায় জালে; কিন্তু এ যাত্রায়ও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা চোখে পড়েছে। স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় এরপর আরও কয়েকটি আক্রমণ নস্যাৎ হয়।

গোল হজম করা বাংলাদেশ বিরতির পর নতুন উদ্যমে শুরু করে। ধারাবাহিকভাবে আক্রমণও শাণায় তারা। ম্যাচের ৫২ মিনিটে গোলটা প্রায় শোধই করে ফেলেছিল বাংলাদেশ! কিন্তু মিঠুন চৌধুরীর পাস থেকে শাখাওয়াত রনি মাটিতে শুয়ে যে হেডটি নেন, তা বাহরাইনের গোলরক্ষকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণের মধ্যমণি ছিলেন হেমন্ত; ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ শাণিয়ে বাহরাইনের রক্ষণভাগে চাপের সৃষ্টি করেন। কিন্তু আসল যে কাজ সেই গোলটিই যেন অধরা! গোল পেতে মরিয়া বাংলাদেশ দলে পরিবর্তনও আনেন কোচ একেএম মারুফুল হক। ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে মাঠে নামা অধিনায়ক মামুনুল ইসলামকে উঠিয়ে সোহেল রানাকে মাঠে নামান কোচ।

এরপর মিঠুন চৌধুরীর পরিবর্তে তপু বর্মণকে মাঠে নামালেও কোনো ফল আসেনি। আক্রমণের ডানা মেললেও গোল করে পাখা মেলা হয়নি শাখাওয়াত রনিদের, যে কারণে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নেমে আসে নিরবতা।

আরও পড়ুন