শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সব শিক্ষকের বেতনের কথাও একটু ভাবুন


NEWSWORLDBD.COM - January 20, 2016

Teachers-Payমুজম্মিল আলী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একদা সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনার চরিত্রে সবচেয়ে বড় গুণ কোনটি? “কোন চিন্তা ভাবনা না করেই বঙ্গবন্ধু উত্তরে বলছিলেন, “আমি আমার দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালবাসি।” ওই সাংবাদিক পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, “আপনার চরিত্রে সবচেয়ে বড় দোষ কোনটি? “জাতির জনক তাৎক্ষণিক উত্তর দিয়েছিলেন, “আমি আমার দেশ ও দেশের মানুষকে খুব বেশী ভালবাসি।” হ্যাঁ, দেশ ও দেশের মানুষকে ‘খুব বেশি ভালবেসে’ বঙ্গবন্ধু এ দেশের মাটিতেই ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চূড়ান্ত আন্দোলনের অষ্টম দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষক নেতাদের তাঁর কার্যালয়ে চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন। সে সাথে দেশের কয়েক জন বুদ্ধিজীবীকেও নিমন্ত্রণ করেছেন। শিক্ষকদের প্রতি ভালবাসার ক্ষেত্র থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকে এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে সকলের বিশ্বাস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে আজ তাঁদের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে আশ্বাস দিয়েছেন। এখন একটা সমাধান হবেই। এমন একটা জায়গা, যেখান থেকে কোনো সমাধান না হয়ে আসতে পারে না। আমাদের জাতীয় আশা আকাঙ্ক্ষার সর্বশেষ বাতিঘর। এরপর আর তো যাবার কোনো জায়গা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষক নেতৃবৃন্দ আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করবেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বিনীত ভাবে কিছু বলার জন্য আমার আজকের এ লেখার প্রয়াস। স্যার, আপনারা আমাদের দেশের শিক্ষার শীর্ষ পর্যায়ের অভিভাবক। আমাদের দেশে শিক্ষার যে দৈন্যদশা চলছে, তা আজ সর্বজন বিদিত। আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে আজ প্রশ্ন উঠেছে সব জায়গায়। গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অনার্সের ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র দু’জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হলো। বাকীদের দায়ভারটুকু কার? আমাদের শিক্ষার আধুনিকায়ন ও বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন তা দয়া করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে বলুন।

আমাদের শিক্ষার সর্বস্তরে মেধাবী শিক্ষকের বড়ই অভাব। মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চান না কেন? মেধাবীরা বড় অংকের বেতন ও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা পাবার আশায় প্রশাসনসহ অন্যত্র চাকুরীতে চলে যান। তারপর, ‘যার নেই কোনো গতি, সে করে পণ্ডিতগিরি।’ একটা কথা আমাদের ভুললে চলবে না যে, অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের দিয়ে আর যাই হোক শিক্ষকতা করানো কেবল কঠিন নহে, প্রায় অসম্ভবও বটে। শিক্ষকতার জন্য চাই মননশীল চিন্তা-চেতনা ও মুক্ত বুদ্ধির মানুষ। এ সব মানুষের শিক্ষকতায় আসার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলে আসবেন।

আমাদের দেশে শিক্ষাকে পণ্য বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। সরকার বিনামূল্যে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পাঠ্য পুস্তক দিচ্ছেন, তদুপরি নোট-গাইডে বাজার সয়লাব। কোচিং সেন্টারগুলো আমাদের শিক্ষার বারোটা বাজিয়ে ছাড়ছে। আজকাল শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বই ছেড়ে নোট-গাইড বেশী পড়ে, স্কুল-কলেজ ছেড়ে কোচিং সেন্টার গামী হয়। আসল ছেড়ে নকলের পেছনে ঘুরছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্ণধাররা। শহরের অলিতে-গলিতে, বিপণী বিতানের উপরের তলায় যত্র তত্র বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে। ক্যাম্পাস-বিহীন এ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানের চর্চা হয় কী করে? শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ না হলে আমাদের শিক্ষাকে বাঁচানো যাবেনা- এ বিষয়টি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে বলে আসবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে বলবেন যে, এ দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে সকল স্তরের শিক্ষকবৃন্দ একমাত্র তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছেন। তিনি কেবল দেশের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি এ দেশের জাতির জনকের কন্যাও বটে। জাতির জনকের কন্যা হিসেবে তাঁর কাছে এ দেশের শিক্ষক সমাজের প্রত্যাশা ও বহুগুণে বেশি। শিক্ষকদের মর্যাদা স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সকল শিক্ষকদের ‘স্বতন্ত্র বেতন স্কেল’ এখন সময়ের দাবি মাত্র।
শিক্ষা ব্যবস্থার যাবতীয় অনিয়ম ও অসঙ্গতি দূর করার জন্য পর্যায়ক্রমে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা অপরিহার্য। একসাথে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের সঙ্গতি আমাদের নেই। জাতির জনক ১৯৭৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষা স্তরকে জাতীয়করণ করেছেন। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা দেশকে ‘মধ্যম আয়ের দেশে’ পরিণত করার জন্য ভীষণ -২০২১ নির্ধারণ করেছেন। এ সময়ের আগে মাধ্যমিক শিক্ষাস্তর জাতীয়করণ করতে না পারলে ভীষণটি সত্যে পরিণত হবে না। এরপর দশ-বিশ্ব বছরের মধ্যে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ না করলে একদিকে আমাদের শিক্ষায় সুদিন ফিরে আসবেনা, অন্যদিকে আমাদের স্বাধীনতার অঙ্গীকার অনেকটাই মাটি হয়ে যাবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেশের আপামর শিক্ষকদের পক্ষ থেক লাল গোলাপের শুভেচ্ছা দিয়ে কিছুটা সময় নিয়ে হলেও বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলে আসবেন। এও বলবেন, শিক্ষকদের জন্য যেন তিনি এমন কিছু করেন যাতে শিক্ষকদের আর কোনোদিন আন্দোলনে নামতে না হয়। একমাত্র দেয়াল পিঠে ঠেকলে পরে শিক্ষকরা আন্দোলন করতে বাধ্য হন।

লেখক : অধ্যক্ষ, চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.