বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাতিজা এ কে এম মহিউদ্দিন মজুমদার ওরফে সামু তার শতাধিক কর্মী ও সমর্থক নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাছিম ও ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁরা আওয়ামী লীগে যোগ দেন। দুপুরে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামে নিজ বাড়ি সংলগ্ন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সমাবেশের আয়োজন করেন আলাউদ্দিন আহমেদ। সেখানে খালেদা জিয়ার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম মহিউদ্দিন মজুমদার ওরফে সামু তাঁর সমর্থকদের নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ৬ জন সদস্যও আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন মজুমদার বলেন, ১৯৭৩ সালে ফুলগাজী যুবলীগের সভাপতি ছিলেন তিনি। এখন আবার তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তিনি আমৃত্যু আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসেবে থাকতে চান।
মহিউদ্দিন সামু সমাবেশে বলেন, “খালেদা জিয়া আমার ফুফু হলেও তিনি কখনও আমাদের খোঁজ-খবর নিতেন না। তিনি কখনও বাড়িও আসতেন না। এখানে কোনো বাড়িঘরও তার নেই।”
সমাবেশে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি সাঈদ এস্কান্দারেরও সমালোচনা করেন তিনি।
মহিউদ্দিন সামু বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) বা আমার চাচা (সাঈদ এস্কান্দার) আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারও করেন নাই। শুধু আমি না, আমাদের বাড়ির সকলে একসাথে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছি।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা দাবি করেন, খালেদা জিয়া ফেনীর ফুলগাজীর মেয়ে হিসেবে দাবি করলেও ফুলগাজীতে তাঁর শাসনামলে কোনো উন্নয়ন হয়নি। এমনকি উপজেলা সদর থেকে খালেদা জিয়ার বাড়ির সড়কটিও আওয়ামী লীগের শাসনামলে পাকা করা হয়েছে। এ কারণে খালেদা জিয়ার বাড়ির লোকজনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।
ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মজুমদার দাবি করেন, মহিউদ্দিন মজুমদার ওরফে সামু কখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি প্রথমে যুবলীগ ও পরে জাতীয় পার্টিতে ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন কি না তা তাঁর জানা নেই।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি খায়রুল বাশার মজুমদার, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার, ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদার, দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির, ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।


