বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

তুষারঝড়ে অচল নিউ ইয়র্ক

635891318036153163-XXX-012216-Snowstorm-SS-184স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ তুষারঝড়ে অচল হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক, জরুরি ছাড়া সব ধরনের ভ্রমণ নিষিদ্ধের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে শহরটিতে।

তুষারঝড়ে নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় ৭১ সেন্টিমিটার তুষারপাত হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ২০টির বেশি স্টেটে ভারী তুষারপাত শুরু হয়। সাড়ে আট কোটি মানুষ এর কবলে পড়ে।

তুষারঝড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে ১১টি স্টেটে। লাখো ঘর-বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেছেন, এই তুষারঝড় এখানকার সবচেয়ে ভয়াবহ পাঁচটি শীতকালীন ঝড়ের একটিতে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে শহরে ৬৩ সেন্টিমিটারের বেশি তুষারপাত হতে পারে।

নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রুকলিন ও কুইন্স আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। জনসাধারণের জন্য সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে।

শুধু জরুরি মেরামত কাজের জন্য নিয়োজিত গাড়ি নিউ ইয়র্কের রাস্তায় চলাচল করতে পারবে। এর বাইরে কেউ গাড়ি নিয়ে বের হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

ফ্লাইটঅ্যাওয়ার ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার নিউ ইয়র্কের প্রায় সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার ওয়াশিংটন অতিক্রম করবে তুষারঝড়, সে সময় নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী রেকর্ড ৭৬ সেন্টিমিটার তুষারের চাদরে চাপা পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ।

১৯২২ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় ৪৬ সেন্টিমিটার বরফ জমেছিল, তা ছিল এযাবতকালের রেকর্ড।

ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র ম্যুরিয়েল ই বাউসার বলেছেন, জনজীবনের জন্যে মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এ তুষারঝড়ের কারণে রাজধানীর সব রেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার ভোর পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে।

তুষারপাতের কারণে রাতে যান চলাচলে বিঘ্ন ও একাধিক দুর্ঘটনায় কেন্টাকি ও পেনসিলভেনিয়ায় ১২ ঘণ্টারও বেশি যানজটের খবর পাওয়া গেছে।

মেরিল্যান্ডের গভর্নর ল্যারি হগ্যান বলেন, “৯০ বছরের মধ্যে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ এলাকার মানুষ দেখেনি। ১৯২২ সালের পর এটি হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক তুষারঝড়।”

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পরিচালক লুইস উসেলিনি এ ঝড়কে খুবই বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেছেন।

আরও পড়ুন