ব্যক্তি পুলিশের অপরাধের দায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর নয় বলে জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেছেন, গত ৫ বছরে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ৭০৯ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রবিবার দুপুরে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৬ উপলক্ষে পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে সমালোচনার আগে কর্মপরিবেশ, কর্মঘণ্টা, বৈরী আবহাওয়া, জনতা ও পুলিশের অসম অনুপাত, নাগরিক আইন না মানার সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনায় আনতে হবে। তিনি বলেন, অল্প কিছু পুলিশ দিয়ে অধিক সংখ্যক নাগরিকদের ওপর আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে মুষ্টিমেয় কিছু পুলিশ সদস্য অপেশাদার আচরণ করে, যার দায়ভার পুরো পুলিশের ওপর পরে।
আইজিপি বলেন, গত ৫ বছরে ৭০৯ পুলিশ সদস্য বিভাগীয় শাস্তির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে আপিল করেছেন। এদের মধ্যে ২৯৩ জন পুলিশ সদস্য বিভাগীয় শাস্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আপিল করে দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এতে ৪০ শতাংশের বেশি পুলিশ দণ্ড থেকে অব্যাহতি পান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদ রুখতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষ বাহিনী আছে। বাংলাদেশে নেই। এ কারণে জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
এদিকে আইন অমান্যকারীকে আটক করেই মারধর না করার জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেন, নাগরিকদের একাংশ আইন মানে না। তবে আইন না মানলেও কোনো পুলিশ সদস্যের কাজ নয় নাগরিকদের মারধর করা। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতে হবে। এরপর যদি তার অপরাধ গুর“তর না হয়, তাহলে আত্মীয় স্বজন ডেকে তাকে ছেড়ে দিতে হবে। অপরাধ গুরুতর হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
আইজিপি সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী ২৬ জানুয়ারি সকাল ১০টায় পুলিশ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার সাহসিকতা ও সেবার জন্য মোট ১০২ জন সদস্যকে পদক দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোকলেসুর রহমান, মইনুর রহমান, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান জাবেদ পাটোয়ারি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া প্রমুখ।


