নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কারণে এবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় এমডি পদে সাবেকদের পুনঃনিয়োগ না দেওয়ার অলিখিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে পদোন্নতির মাধ্যমে এবং সার্চ কমিটির সুপারিশকৃতদের মধ্য থেকে যোগ্যদের দিয়ে এমডি পদ পূরণ করা হবে। সে ক্ষেত্রে বর্তমানে যারা প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বিতীয় সারিতে অর্থাৎ ডিএমডি পদে রয়েছেন, তারা এমডি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং তৃতীয় তলায় অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমদের দফতর। সরকারি ছুটি ও দেশের বাইরে না থাকলে সপ্তাহের পাঁচদিনই দফতরে আসেন তারা। দাফতরিক কাজের ফাঁকে নিয়মিতভাবেই দেখা করেন দর্শনার্থীদের সঙ্গেও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রী ও সচিবের দর্শনার্থীদের তালিকায় প্রতিদিনই ২/১ জন সাবেক ব্যাংকারও থাকেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অতীতে। তবে আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্টদের নিয়োগ দেওয়া হলে সমালোচনা কম হবে। চলবে ভালো। এ জন্যই সদ্য অবসরে যাওয়া ব্যাংকারদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দিয়ে পর্যায়ক্রমে পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবছি।’
জানা গেছে, যারা আগে সরকারি কোনও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, বর্তমানে অবসর সময় কাটাচ্ছেন, তারা ফের ওইসব প্রতিষ্ঠানে এমডি পদে পুনঃনিয়োগ পেতে তদবির করতে আসা-যাওয়া শুরু করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে। তাদের মধ্যে সরকারি দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সদ্যবিদায়ী এমডিও রয়েছেন। যাদের একজন একটি প্রতিষ্ঠানে ৫ বার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন, অন্যজন নিজের চাকরির মেয়াদ শেষে ফের তদবির শুরু করেছেন। এ দুটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে তদবিরকারীর তালিকায় অন্যরাও রয়েছেন। যারা এ সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি পদে নিয়োগ পেতে আগ্রহী।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) এমডির পদ শূন্য রয়েছে। আইসিবির এমডি মো. ফায়েকুজ্জামান সদ্যসমাপ্ত ২০১৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর ও হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের এমডি নুরুল আলম তালুকদার একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে গেছেন। তিনবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশ ডেভেলেপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড-এর (বিডিবিএল) এমডি ড. জিল্লুর রহমান অবসরে যাবেন ১৭ ফেব্রুয়ারি।
জানা গেছে, এক সঙ্গে সরকারের এই তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি পদে নিয়োগ দেবে সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে বর্তমানে এমডি পদে দায়িত্ব পালন করছেন প্রদীপ দত্ত, সৈয়দ আবদুল হামিদ ও এম. ফরিদ উদ্দিন। তারা সবাই অবসরে যাবেন চলতি বছরের জুনের পরে। তারা তিনজনই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই তিনজনের মধ্যে কেউই আর নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাচ্ছেন না। এসব ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগ দিতে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বের করবে সরকার গঠিত সার্চ কমিটি। সার্চ কমিটি নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যাচাই-বাছাই শেষে করে একটি ব্যাংকের এমডির জন্য তিনজনের নাম সুপারিশ করে পাঠাবেন। এর মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে একজনকে এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নেবে অর্থ মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল বুঝতে সক্ষম হয়েছে—সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলে এক পর্যায়ে এসে প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতি আটকে যায়। এতে এক ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়। ব্যাংকিং কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। সরকার সমালোচিত হয়।
এদিকে, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক পদে রাজনৈতিক নিয়োগ না দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চায় অর্থ মন্ত্রণালয়। সেক্ষেত্রে পরিচালকের শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অবসরে যাওয়া ব্যাংকার ও আমলাদের কথা ভাবা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন সাবেক আমলা ও ব্যাংকারকে সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও শূন্য পদগুলোয় এ খাতের অভিজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস।


