ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার
বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার (প্রক্সি) দায়ে ছয়জন, নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ছয়জন, যৌন নিপীড়নের দায়ে তিনজন এবং অমর একুশে হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষ ভাঙচুরের দায়ে একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক নূর-ই-ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ জন ছাত্রকে আমরা বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করেছি। তাদের অপরাধ ছিল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দেয়া, প্রশ্ন জালিয়তি, নারী নির্যাতন ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামি সংগঠন হিজবুত তাহ্রীরের সঙ্গে জড়িত ছিল। সুপারিশ অনুমোদন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, সভায় প্রক্টোরিয়াল বডির সুপারিশ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
প্রক্টরিয়াল আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী, বহিষ্কৃত থাকাকালে শিক্ষার্থী কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না এবং হলে থাকতে পারবেন না। সাময়িক বহিষ্কৃতদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত সাময়িক বহিষ্কৃতরা ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী হওয়ায় ঘটনার পরপরই তা ধামাচাপা দিতে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এটি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
সূত্র জানায়, বহিষ্কার-সংক্রান্ত চিঠি শিক্ষার্থীর স্থায়ী ঠিকানা, সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভাগের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, উপ-রেজিস্ট্রার শিক্ষা ও উপ-রেজিস্ট্রার তদন্তসহ মোট ১২টি কার্যালয়ে যাওয়ার কথা। স্থায়ী ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয় ডাকযোগে রেজিস্ট্রি ছাড়াই। ফলে প্রাপক সেই চিঠি পেলেন কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে চেষ্টা-তদবির করে এ চিঠি আটকে দেওয়া হয়। কোনো কোনো শিক্ষার্থী স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানোর কথা বলে নিজেই চিঠি নেন। এরপর চেষ্টা চলে বিভাগ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে চিঠি যেন না পৌঁছায়।


