বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ডিএনএ টেস্ট রিপোর্টে থমকে আছে তদন্ত

115550_1 (1)‘আমি ব্যক্তিগতভাবে নৈরাশ্যবাদী নই। কিন্তু ছেলে অভিজিৎ হত্যা মামলার তদন্ত আমাকে নিরাশ করেছে। হত্যার প্রায় এক বছর হতে চলল। মামলার বাদী হিসেবে এটুকু বলতে পারি তদন্ত সংস্থা আমাকে হতাশ করেছে।’ ক্ষোভ ও হতাশা থেকে কথাগুলো বলেন, বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ড. অভিজিৎ রায়ের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. অজয় রায়।

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ১১ মাস আজ। গত বছর একুশে গ্রন্থমেলা চলাকালে ২৬ ফেব্র“য়ারি খুন হন ড. অভিজিৎ রায়। মামলার তদন্ত সংস্থা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ডিবি) বলছে, ডিএনএ (ডি-অক্সি-রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) টেস্ট রিপোর্ট না পাওয়ায় মামলার তদন্ত থেমে আছে। মামলার ছায়া তদন্তকারী সংস্থা এলিট ফোর্স র‌্যাব বলছে, তারা তিন আসামিকে গ্রেফতার করে ডিবির হাতে সোপর্দ করেছে। এদের একজন পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা এবং একজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। ওই মামলার আরও চার আসামি পলাতক আছে। তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

অভিজিৎ হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, মামলার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্তে আসে। তারা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে। এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা আলামতের ডিএনএ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অন্যান্য প্রতিবেদন এখনও পুলিশের কাছে এসে পৌঁছায়নি। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া আটজনের ডিএনএ’র সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে। ডিএনএ রিপোর্ট না পাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি হচ্ছে না। মনিরুল ইসলাম আরও জানান, আগামী সোমবারই শুরু হবে একুশে বইমেলা। অভিজিৎ হত্যার মতো সংবেদনশীল বিষয়টি মাথায় রেখে এবার বইমেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি এবার পুরো এলাকা প্রায় ৫০০ সিসিটিভির আওতায় থাকবে।

র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ সোমবার বলেন, র‌্যাব তিন আসামিকে গ্রেফতার করে তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের মধ্যে তৌহিদুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও অর্থ জোগানদাতা। আর সাদেক আলী সরাসরি কিলিংয়ে অংশ নেয়। এ ছাড়া হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় এবিটির স্লিপার সেলের আরও চার সদস্য। তারা হল : রমজান ওরফে সিয়াম, নাঈম, জুলহাস বিশ্বাস ও জাফরান আল হাসান। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ড. অজয় রায় বলেন, মামলার তদন্তের অগ্রগতি না হওয়ায় দুঃখ এবং হতাশা প্রকাশ করা ছাড়া আর কি আছে। মাঝে মধ্যে ডিবি অফিসে খোঁজ নিতে যাই। কিন্তু তারা তেমন একটা এন্টারটেইন করতে চান না। তারা শুধু বলেন, তদন্ত চলছে, দেখছি। আমাকে কোনো তথ্য দেয়ার বিষয়েও তারা খুব একটা আগ্রহ দেখান না।’

গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসংলগ্ন জনাকীর্ণ স্থানে ড. অভিজিৎকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও ওই হামলায় গুরুতর জখম হন। তদন্তে নেমে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ডিবি দাবি করে, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি)। ১৮ আগস্ট এ হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনের দাবি করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, অভিজিৎ রায়কে হত্যার নির্দেশ আসে কারাগার থেকে। এবিটির প্রতিষ্ঠাতা মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানী কারাগার থেকে তার ভাই আবুল বাশারের মাধ্যমে ওই নির্দেশনা পাঠান। মাঠপর্যায়ে পরিকল্পনা ও অর্থ জোগান দেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমান। কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয় এবিটি স্লিপার সেলের ৫ সদস্য। এদের মধ্যে রমজান ওরফে সিয়াম কালোজিরা ও মধু বিক্রেতার ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আছে।

আরও পড়ুন