বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

কল্যাণপুর বস্তি উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা বহাল

mirpur jug1_2868রাজধানীর কল্যাণপুর পোড়া বস্তি উচ্ছেদে হাইকোর্টের দেয়া তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে হাইকোর্ট যে রুল দিয়েছিল, চার সপ্তাহের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করারও নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। হাইকোর্টে এ বিষয়ে রুলের ওপর শুনানি করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে।

গত ২১ জানুয়ারি রাজধানীর কল্যাণপুরের নতুন বাজার পাইকপাড়ায় বস্তি উচ্ছেদ কার্যক্রমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যথাযথ আইন প্রক্রিয়া ছাড়া ওই বস্তি (গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জমি) উচ্ছেদ ও বস্তির বাসিন্দাদের হয়রানি না কররাও নির্দেশ দেন আদালত।

জনস্বার্থে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

ওইদিন কল্যাণপুর বস্তি উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র্র করে পুলিশের সঙ্গে বস্তিবাসীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। দুপুর ১২টায় ওই এলাকায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে এ সংঘর্ষ বাঁধে।

জানা গেছে এ বস্তি উচ্ছেদের বিষয় নিয়ে ২০০৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর আসক, কোয়ালিশন ফর আরবান পুওর এবং দুইজন বস্তিবাসী হাইকোর্টে একটি রিট করেন। এ রিটের শুনানি নিয়ে একই সালের ২৮ ডিসেম্বর আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে ২০০৬ সালের ১০ জানুয়ারি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বস্তি উচ্ছেদে ডিএমপির কাছে পুলিশ চান। এ উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ চেয়ে বাদী পক্ষ ২০০৬ সালের ৬ জুন উচ্ছেদ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেন। পরের বছর হাইকোর্ট এ রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে আদেশ দেন। প্রায় ছয় বছর কোনো কার্যক্রম হাতে না নিলেও চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় আবারও উচ্ছেদের জন্য পুলিশ চায় এবং গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা শুরু করে। এ অবস্থায় বাদীপক্ষ হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

আরও পড়ুন