বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধ অবমাননাকারীদের শাস্তি দিতে আইন হচ্ছে

liberation-warমুক্তিযুদ্ধ অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিতে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ তথ্য জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার পর মুক্তিযুদ্ধ অবমাননার জন্য শাস্তি দিতে আইন করার দাবি ওঠে। এই আইন নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।আইনে কোন কোন বিষয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে সে বিষয়েও ধারণা দিয়েছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর কিছু রাজনীতিবিদের মুক্তিযুদ্ধ ও তৎকালীন সময়ের ইতিহাস বিকৃতির ‘প্রবণতা অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “এ প্রেক্ষাপটে কোনও ব্যক্তি যদি মুক্তিযুদ্ধ এবং তৎকালীন সময়ের ইতিহাস বা স্বীকৃত ঘটনাবলী সম্পর্কে অসত্য বা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পরিবেশন, প্রকাশ করেন অর্থ্যাৎ সামগ্রিকভাবে মুক্তিযুদ্ধকে কেউ অবমাননা করেন তাহলে সেই সব কর্মকাণ্ডকে অপরাধ গণ্য করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্যে আইন করার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।”

গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীতে একটি আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, “আজকে বলা হয় এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানা রকম তথ্য আছে।”

এ বক্তব্যের পর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন থেকে খালেদা জিয়ার সমালোচনা হয়। বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্যও বিএনপি নেত্রীর প্রতি আহ্বানের পাশাপাশি তার শাস্তি করে রাজপথে বিক্ষোভও হয়েছে।

বিএনপি প্রধানের ওই বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল অভিযোগ করে আদালতে মামলাও হয়েছে, যাতে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য খালেদাকে তলব করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গ টেনে সাংসদ ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান মুক্তিযুদ্ধ অবমাননার আইনের জন্য চলতি অধিবেশনে সংসদে বিল উত্থাপন করা হবে কি না।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “এই আইনের বিষয়টি নিয়ে আলাপ- আলোচনা চলছে। এখনো আইনের খসড়া দাঁড় করানো যায়নি।

“আইনটি তাড়াতাড়ি করাটাই আমাদের উদ্দেশ্য। তবে এই মুহূর্তে সময় বেঁধে দিতে পারছি না। কিছুটা সময় হয়তো লাগতে পারে।”

আরও পড়ুন