বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় গিয়ে বাংলাদেশের ২ সেনা সদস্যের যৌন নিযাতন

Soldiers-in-Central-Afric-014জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও সততার ফলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সেই নাক কেটেছে দুই সেনা সদস্য।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর যে সদস্যদের হাতে শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশের দুই সৈনিক রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের (কার) জাতিসংঘ শান্তিমিশনে অংশ নেয়া বিভিন্ন দেশের মোট আট সেনা-পুলিশের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ওপর যৌন নীপিড়ন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার এক জাতিসংঘ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘ মিশনে অংশগ্রহণকারী সেনাদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও এবারই প্রথম অভিযুক্তদের জাতীয়তা প্রকাশ করলো সংস্থাটি। এদের মধ্যে নাইজারের চার সেনা, বাংলাদেশের দুই সেনা, মরেক্কো ও কঙ্গোর এক সেনা এবং সেনেগালের দুই পুলিশ রয়েছে। গতবছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ওই যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো ঘটেছিল বলে জাতিসংঘ মহাসচিবের সহকারী টনি বানবুরি জানিয়েছেন।

এদিকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে শান্তিরক্ষীদের হাতে শিশুদের যৌন নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে সেটা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে জাতিসংঘ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতিসংঘ যেভাবে সাড়া দিচ্ছে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ একটি প্যানেল গত মাসে তার তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘জাতিসংঘের ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করার পর এই প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত শান্তিরক্ষীদের জাতীয়তা প্রকাশ করা হলো।

এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ হয়ে উঠেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব এন্থনি ব্যানবারি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গত বছর সারা বিশ্বে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের হাতে যৌন হয়রানির অভিযোগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯টি। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫১।’

এদিকে জাতিসংঘের কর্মকর্তারাও বলছেন, ইউরোপিয়ান সৈন্যদের হাতেও ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী বেশ কয়েকটি মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সাত এবং নয় বছর বয়সী দুটো মেয়ে শিশুও অভিযোগ করেছে যে, ফরাসী সৈন্যরা তাদেরকে নির্যাতন করেছে। অবশ্য ফ্রান্স সরকার সেই সৈন্যদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

জানা গেছে, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আগামী মাসে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন। ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের নাম ও জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। জাতিসংঘ মিশনে অংশ নেয়ার সময় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্তদের তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনতে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করার জন্যই তাদের জাতীয়তা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘ কর্মকর্তা টনি বানবুরি বলেছেন, ‘আপনারা শিগগিরই আমাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ওইসব সেনা-পুলিশের ওপর বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।’

আরও পড়ুন