বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা নিখোঁজ: প্রতিশোধ পাকিস্তানের

Bangaladesh+high+commission-Pakistanঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তাকে গোয়েন্দা পুলিশের আটকের ঘটনার কিছু সময় পরই ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একই পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন নিখোঁজ হয়েছেন। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, প্রেস উইংয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ‘পার্সোনাল স্টাফ’ জাহাঙ্গীর হোসেনকে সোমবার বিকেল ৫টা থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স উইং বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গত সন্ধ্যার পর থেকেই যোগাযোগ শুরু করেছে।

পাকিস্তানে হাইকমিশনার সোহরাব হোসেন জানান, বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস শাখার কর্মী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দূতাবাসের দাপ্তরিক কাজ  শেষ করে প্রতিদিন বিকালে তার মেয়ে যে কোচিং সেন্টারে পড়ে, সেখানে যান। এরপর মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফেরেন। এদিন বিকেলেও তার ওই কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে তিনি সেখানে না পৌঁছানোয় জাহাঙ্গীরের মেয়ে বাসায় তার মা’র কাছে ফোন করে। কারণ জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর জাহাঙ্গীরকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।

এই ঘটনাকে পাল্টাপাল্টি হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কারণ, গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের তথ্য সচিব আমরিন খানের ব্যক্তিগত সহকারী আবরার আহমেদকে আটক করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পাকিস্তান হাইকমিশনের আববার ও ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের জাহাঙ্গীর হোসেন একই পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

এর আগে গত ডিসেম্বরে ঢাকা থেকে পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রথম সচিব ফারিনা আরশাদকে বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বলার কয়েকদিন পরই পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব মৌসুমী রহমানকেও সেদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করে পাক সরকার।

আবরারকে এর আগে রাজধানীর গুলশান এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধির জন্য গতকাল বেলা ২টার দিকে আটক করা হয়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গুলশান থানায়। সেখানে তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে দূতাবাসে হস্তান্তর করা হয়। আবরার খান ১০ বছর ধরে ঢাকায় প্রেস সেকশনে অ্যাসিটেন্ট প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছেন বলে পাকিস্তান হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তার বাসা গুলশান ২ নম্বর সেকশনে।

এদিকে পাকিস্তান হাইকমিশন অভিযোগ করেছে, আবরার আহমেদ খান নামে ওই কর্মকর্তাকে ধরে তার কাছে ৫ কোটি টাকা চেয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশ। তা না দিলে ‘ক্রসফায়ারের’ ভয়ও দেখানো হয়েছিল। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা পাকিস্তান দূতাবাসের ওই কর্মকর্তাকে ভয় দেখানোর কিংবা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মারুফ হোসেন সরদার বলেন, গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছিল। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

তবে পাকিস্তান হাই কমিশন থেকে গতকাল সন্ধ্যায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবরারকে সকাল ১১টায় তুলে নেওয়া হয়েছিল। ডিবির জ্যাকেট পরা চার-পাঁচজন আবরার খানকে গুলশান ২ নম্বরে তার বাড়ির সামনে থেকে জোর করে রুপালি রঙের একটি গাড়িতে তোলে। এরপর জোর করে তার বাড়িতে ঢুকে তার মোটর সাইকেলটিও নিয়ে যায়। আবরারকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তাকে গাড়িতে তুলে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে চোখ বেঁধে চার ঘণ্টা ঘোরানো হয়েছিল। তার কাছে পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল, নইলে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছিল।”

দূতাবাসকর্মীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তার সঙ্গে এই আচরণের নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান হাই কমিশন। দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অপবাদ ও মিডিয়া ট্রায়ালের’ পর পাকিস্তান হাই কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এভাবে হেনস্তার এই ধরনটি দেখা যাচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, এর আগে জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত সন্দেহে গত বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তা মাযহার খানকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন