মিয়ানমারের একটি শিশু তার মৃত মা’র দুগ্ধ পান করছে বলে গত কয়েকদিন ধরে একটি ছবি সারাবিশ্বে ভাইরাল হয়ে ঘুরছে। ছবিটি পিনটেরেস্ট পোস্ট করেছেন ভেরা হিজাজি নামের এক নারী।
এই ছবি আপলোড করে তিনি বলেছেন, বার্মায় একটি শিশু তার মৃত মার বুকের দুধ পান করছে! কিন্তু কে দেখে! (হু কেয়ারস)।
তিনি আরো বলেন, গত কয়েকদিন আগে বোস্টনে তিনটি শিশু মারা যাওয়ার খবর সারাবিশ্বে আলোড়ন তুলেছে।
তিনি বলেন, ইরাকের কথা বলি, সেখানে ২০০৩ সাল থেকে যুদ্ধে ৫ লাখের মতো শিশু মারা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হু কেয়ারস!
পশ্চিম মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর নাম রোহিঙ্গা। এরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত এবং নিজস্ব ভাষা থাকা সত্ত্বেও বাংলা ভাষায় কথা বলে থাকে। রোহিঙ্গাদের ‘বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী অভিবাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের মিয়ানমার থেকে বিতাড়নের আন্দোলন করছে স্থানীয় রাখাইনরা।মিয়ানমারের আকিয়াব, রেথেডাং, বুথিডাং এলাকায় মূলত এদের বাস। মিয়ানমার ছাড়াও ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বাস করে বলে ধারণা করা হয়। চেহারা ও বিশ্বাসগত দিক থেকে বাংলাদেশিদের সঙ্গে মিল থাকায় মিয়ানমার সরকার প্রায়ই তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। সম্প্রতি মিয়ানমারের আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে স্থানীয় রাখাইনদের জাতিগত বিদ্বেষ দাঙ্গায় গড়িয়েছে।
মিয়ানমারে মুসলিমদের প্রতি এই জাতিবিদ্বেষ নতুন নয়। ১৯৭০-এর দশকে স্বৈরশাসক নি উইনসের সময় থেকেই এর ধারা শুরু হয়েছিল। সরকারি বেসরকারি মিডিয়াগুলোর সঙ্গে সঙ্গে দেশে-বিদেশে মিয়ানমারবাসীরা এবারে মুসলিমদের বিতাড়নের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন।
মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলিমদের যে মানবিক বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সেখানকার জাতিবিদ্বেষ, আন্তঃনৃতাত্তি্বক ও ধর্মীয় সম্পর্ক, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও আচরণবিধি এবং বিশ্বব্যাপী জাতিবিদ্বেষমূলক প্রচারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আশু পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা সমস্যা এখন কেবল মিয়ানমারের নয়, বরং দেশটির হঠকারিতামূলক আচরণের কারণে আশপাশের দেশগুলোর জন্যও এক বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
এদিকে গত পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে করা সর্বশেষ আদমশুমারিতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। এতে প্রায় ২০-৩০ লাখ রোহিঙ্গা পরিচয় সঙ্কটে ভুগছেন। এ ছাড়া নানা কৌশলে মুসলিমদের আদমশুমারি থেকে বাদ দেওয়া হয়।এর আগের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী মিয়ানমারে বসবাসরত মুসলিমদের হার ৪ শতাংশ। সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটির মোট জনসংখ্যা ৫ কোটি ১০ লাখেরও বেশি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক অনুযায়ী, দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই বৌদ্ধ।


