গাইবান্ধায় আইন অমান্য করে একের পর এক ইটভাটা গড়ে উঠলেও প্রশাসনের নীরব ভুমিকায় জেলার সচেতন নাগরিক হতবাক। এদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি কৃষি ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইটভাটার মালিকরা খুব দাম্ভিকতার সাথেই বলছেন আইন মেনে ভাটা চালানো অসম্ভব। আর জেলা প্রশাসক দোষ দিচ্ছেন পরিবেশ অধিদপ্তরকে!
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার চক গয়েশপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় জনবসতির মাঝে কৃষি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে ড্রাম চিমনির ভাটা । সেখনে ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ফলদ,বনজ বিভিন্ন প্রজাতীর গাছ। আর ভাটা থেকে প্রতিনিয়ত নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া। ইট ভাটার নির্গত ধোঁয়া থেকে কার্বণ মনো অস্কাইড সালফার ডাই অক্সাইড ও কার্বন ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন পদার্থ প্রতিনিয়ত বায়ু দুষণ ঘটাচেছ।
শুধু তাই নয় আশপাশের আবাদী জমি থেকে মাটির উর্বর অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে ইট তৈরির কাজে। এতে দুর্ভোগের শেষ নেই সাধারণ মানুষের।
গাইবান্ধা জেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ হক্কানীর সাথে কথ বললে তিনি জানান আমরা কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে সকল কাগজ পত্র ঠিক রেখে সরকারী নিয়ম নীতি মেনে চলছি। অন্যদিকে কতিপয় ভাটা মালিকরা প্রশসনের কিছু অসাধু কর্তা ব্যক্তিদের কিছু সুবিধা দিয়ে নিয়ম নীতির বাহিরে পরিবেশের তোয়াক্কা না করে তাদের ভাটা চালিয়ে যাচ্ছে। গাইবান্ধা জেলার ইট ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল কাদির ফুল বলেন এমন কিছু নেই যা প্রশাসন জানেন না। কিন্তু কেন যেন অদৃশ্য কারনে তারা নিরব ভুমিকা পালন করছেন।
গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুল ইসলাম মন্ডল এর সাথে এব্যাপারে কথা বললে তিনি জানান এসব ইট ভাটার কারণে মানুষের মারাত্মক রোগব্যধি হতে পারে। কেননা ইট ভাটার নির্গত ধোঁয়া থেকে কার্বন মনো অক্সাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত বায়ু দুষণ ঘটাচ্ছে।
উল্লেখ থাকে যে, গাইবান্ধা জেলায় ৮৮টি ইট ভাটা থাকলেও মাত্র ২০টি ইট ভাটার লাইসেন্স রয়েছে।
জাভেদ হোসেন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম


