নারকেল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। দেশে বর্তমানে যে প্রচলিত নারকেলের জাত রয়েছে সেগুলোর ফলন খুবই কম। গাছ প্রতি বছরে সর্বোচ্চ ৫০টি নারকেল পাওয়া যায়। আর ফলন পেতে ছয়-সাত বছর সময় লাগে।
তাড়াতাড়ি ফলন পাওয়ার আশায় নতুন তিনটি খাটো জাতের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নারকেল চারা আমদানি করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার ভিয়েতনাম থেকে এসেছে ২০,০০০ নারকেল চারা। ভারতের কেরালা থেকে এসেছে ডিজে সম্পূর্ণা ডোয়ার্ফ জাতের ১০,০০০ চারা।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে নারকেলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি নারকেল ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে এসব চারা আমদানি করবে সরকার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘বছরব্যাপী ফল উত্পাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে এসব চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এ ধরনের আড়াই লাখ চারা আমদানি করা হবে।
পাশাপাশি অন্য একটি কর্মসূচির আওতায় আরো ২ লাখসহ মোট ৫ লাখ ৫০,০০০ চারা আমদানি করা হবে। এসব চারা দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোয় বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
‘বছরব্যাপী ফল উত্পাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মেহেদী মাসুদ বলেন, নতুন জাতের এ নারকেল গাছ যথাযথ পরিচর্যা করলে আড়াই থেকে তিন বছরেই ফলন দেবে। এর ফলনও দেশী জাতের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
উন্নত এ জাত সম্প্রসারণ করা গেলে দেশে নারকেলের উত্পাদন প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে নারকেল-সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে দেশে। চলতি বছর আরো এক লাখ চারা আমদানি করা হবে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, ভারতের কেরালা থেকে ১০,০০০ ডিজে সম্পূর্ণা ডোয়ার্ফ ও ভিয়েতনামি জাতের ২০,০০০ নারকেল চারার চালান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বুধবার দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরই মধ্যে আমদানিকৃত এসব চারা রোপণের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।


