বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

অযত্নে-অবহেলায় ঐতিহ্যের কাঠের ট্রেন: নজর নেই রেলওয়ের

BD-Wood-Train-3চট্টগ্রামে একটি কাঠের ট্রেন সযত্নে সংরক্ষণ করা হলেও বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো কাঠের ট্রেনটি অবহেলায় অযত্নে নষ্ট হতে চলেছে লালমণিরহাটে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের গর্ব এই ট্রেনটি সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগই নেই। রোদে-বৃষ্টিতে ভিজে ঘুনে-উড়ি খেয়ে এর বারোটা বেজে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম ঐতিহ্য এই কাঠের ট্রেন নিয়ে রেলওয়ের কারো কোনো মাথাব্যাথা নেই। যত দুশ্চিন্তা সাধারণ ঐতিহ্যজ্ঞান সম্পন্ন মানুষের। লালমনিরহাটে ভগ্নদশাময় ট্রেনটি দেখে এভাবেই একজন পাঠক নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে জানিয়েছেন তার প্রতিক্রিয়া।

নষ্ট হতে যাওয়া ট্রেনটির ছবি দেখে আসলেই কষ্ট হয়। ১৯২০ সালের দিকে ট্রেনটি তৈরী করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এদিকে লালমনিরহাটে ট্রেনটি এভাবে পড়ে থাকলেও চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অপর একটি কাঠের ট্রেন অবশ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

একসময় আমাদের এই বাংলা ভূখন্ডেও চলতো কাঠের ট্রেন। চট্টগ্রামের ওই ট্রেনটি  চলেছে ৪৫ বছরের বেশি সময়। পাহাড়তলীতে সংরক্ষিত ট্রেনটি ব্যবহৃত হয়েছে রাষ্ট্রীয় সেলুন হিসেবে। ১৯৬১ সালে ইংল্যান্ডের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ যখন বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন তখন তিনি ঢাকায় এ ট্রেনেই ভ্রমণ করেছেন।

রেলওয়ের ইতিহাসে দীর্ঘ ৯৪ বছরের পুরনো গৌরবময় ইতিহাস এবং কালের সাক্ষী হিসেবে চট্টগ্রাম রেলওয়ে সদর দপ্তরে এখনো সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে সেই কাঠের ট্রেন। এটি ষ্টিল আন্ডারফ্রেমের উপর কাঠের তৈরি। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় ট্রেনটি দেখতে পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, ১৯২২ সালে স্কটল্যান্ডে বিশেষ এই কাঠের ট্রেনটি নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি এ দেশের রেলপথে চলাচল শুরু করে।

রেলওয়ে পাহাড়তলী কারখানার কর্ম ব্যবস্থাপক (নির্মাণ) সাদেকুর রহমানের জানান, কাঠের ট্রেনটি ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রেলপথে নিয়মিত চলাচল করে। ১৯৬৬ সালের দিকে চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। তখন মেরামত করে আবারও চলাচল উপযোগী করা হয়। এ সময় রেলওয়ের চেয়ারম্যান ও  জেনারেল ম্যানেজারের সেলুন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দীর্ঘদিন অফিসিয়াল কার্যক্রমে ব্যবহারের পর ১৯৯২ সালে ট্রেনটিতে আবারো সমস্যা দেখা দেয়। তখন ট্রেনটিকে রেলপথে চলাচলে অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়। এ অবস্থায় ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী হিসাবে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী কারখানায় যত্নের সাথে সংরক্ষণ করা হয়।

পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানাটি সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় রেলওয়ের ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটি সবার প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয় না। তবে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ঐতিহ্যের এই নির্দশনটি দেখার সুযোগ রয়েছে আগ্রহীদের।

আরও পড়ুন