কিশোরগঞ্জের যশোদল টেক্সটাইল মিলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কর্তৃক স্থাপিত উদ্বোধনী ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙে ফেলেছে র্যাব-১৪ এর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মো. রিয়াদুল ইসলাম।
একই স্থানে সংস্কারকৃত মিল মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে উদ্বোধক হিসাবে নিজের নাম ব্যবহার করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ পরিস্থিতিতে র্যাবের অধিনায়ক মেজর মো. রিয়াদুল ইসলামকে ময়মনসিংহ ব্যাটেলিয়ান সদরে ক্লোজড করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানা গেছে।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা করেছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড। বেলা ১টায় মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের যুগ্ম-আহ্বায়ক এনায়েত করিম অমি’র সভাপতিত্বে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলন শেষে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন ও সভা থেকে বক্তরা অবিলম্বে র্যাব-১৪ এর সিপিসি-২ কোম্পানির অধিনায়ক মেজর মো. রিয়াদুল ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
জানা গেছে, ১৯৭৫ সালের ৫ মার্চ কিশোরগঞ্জ শহরের অদূরে যশোদলে বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন নিয়ন্ত্রিত কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তদানীন্তন উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
মিলটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বিএনপি সরকারের আমলে এটি নাম মাত্র মূল্যে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেয় প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেসরকারি মালিকানাতেও মিলটি কিছুদিন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলার পর বন্ধ হয়ে যায়।
বছর দেড়েক আগে ভাড়া নিয়ে র্যাব-১৪, ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি (সিপিসি) এর প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি মিলের ভেতর মসজিদের সামনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম কর্তৃক স্থাপিত ওই ভিত্তিপ্রস্তরটি ভেঙে ফেলা হয়।
ওই স্থানে মসজিদ সংস্কারের নামে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে লাগানো হয় র্যাব-১৪ এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রিয়াদুল ইসলামের নাম।
আর এ ভিত্তিপ্রস্তরে লেখা রয়েছে ‘ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-২, র্যাব-১৪ এর অস্থায়ী কার্যালয় ও কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস জামে মসজিদ সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন মেজর মো. রিয়াদুল ইসলাম।’ তারিখ লেখা রয়েছে ৫ ফেব্রুয়ারি।
এ ব্যাপারে কথা হলে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাতিজা জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের আহ্বায়ক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার অন্যতম স্থপতি ও জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ওই স্মৃতিফলকটি ভেঙে ফেলার এখতিয়ার কারও নেই।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি, জাতীয় পার্টির সরকারের সময়ও ওখানে হাত দেয়ার সাহস কেউ দেখায়নি। অথচ একটি সুশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল বাহিনী কাউকে না বলে ঐতিহাসিক নিদর্শনটি ভেঙে ফেলেছে।’ এ সময় তিনি এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
যোগাযোগ করা হলে মেজর মো. রিয়াদুল ইসলাম দাবি করেন, ভিত্তি ফলকটি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে ভাঙ্গা হয়নি। এটির বেইজমেন্ট ভেঙে গিয়েছিল। পাথরে শ্যাওলা পড়ে বিনস্টের পথে চলে গিয়েছিল। নতুন করে স্থাপন করার জন্যই ভেঙে পাথরটি সযত্নে রাখা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি এখানে আসার পর মসজিদের ব্যাপক সংস্কার করেছি। তাই মসজিদের সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তরে উদ্বোধক হিসেবে আমার নাম লেখা হয়েছে।’
প্রত্যাহার করে নেয়ার বিষয় নিশ্চিত হতে প্রশ্ন করা হলে মেজর মো. রিয়াদুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি এখন ময়মনসিংহেই চলে এসেছি।’


