বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশি কূটনীতিকের স্ত্রী আমেরিকায় চার বছরে তিন বাড়ির মালিক

BD-Mitraবাংলাদেশের এক কূটনীতিকের স্ত্রীর নামে নিউইয়র্কে গত চার বছরে তিনটি বাড়ি কেনার খবর নিয়ে তোলপাড় তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ২ মিলিয়ন ডলার নগদ পরিশোধে গত চার বছরে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকা ও ফরেস্ট হিলস এলাকায় তিনটি বাড়ির মালিক হয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের ইকনোমিক মিনিস্টার বরুণ দেব মিত্রের (বি ডি মিত্র) স্ত্রী রাখী মিত্র চৌধুরী। তার এই তিনটি বাড়ির মূল্য তিন মিলিয়ন ডলার।

নগদ অর্থে বাড়ি ক্রেতাদের অর্থের উৎস জানতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানতে চায় যে, সে অর্থ বৈধ চ্যানেলে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে কিনা। ঠিক এমনি অবস্থার মধ্যেই বাংলাদেশি এই কর্মকর্তার স্ত্রীর কর্তৃক বিপুল অর্থে বাড়ি ক্রয়ের তথ্য মিডিয়ায় এলো।

জানা যায়, বিডি মিত্রের স্ত্রী রাখী মিত্র চৌধুরী নিউইয়র্কে বহুজাতিক একটি সংস্থায় চাকরি করেন। একই সংস্থায় কর্মরত অপর বাংলাদেশিরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হঠাৎ করে তিনটি বাড়ির মালিক হবার সংবাদে। স্বা-স্ত্রী উভয়ে যে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, তা দ্বারা কোনওভাবেই নগদ দুই মিলিয়ন ডলার সঞ্চয় করা সম্ভব নয় বলে রাখী মিত্র চৌধুরীর এক সহকর্মী জানান।

প্রসঙ্গত, বিডি মিত্র পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা নন; ইকোনমিক উইংয়ের এই কর্মকর্তাকে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে। জানা গেছে, বিডি মিত্রের স্ত্রীসহ সন্তানরা আগে থেকেই নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। অতিরিক্ত সচিবের পদমর্যাদায় ঢাকায় চাকরি করতেন। নিউইয়র্কে পরিবারের সাথে চাকরির শেষ দিনগুলো কাটানোর অভিপ্রায়ে নিম্ন পদমর্যাদা (ইকনোমিক মিনিস্টার) হওয়া সত্বেও জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে আসেন চার বছর আগে।

প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে বিডি মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমেরিকায় কত-শত সংবাদ রয়েছে। তা না লিখে ঢাকা থেকে আমাদের বিষয়কে কেন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে?’ তার স্ত্রীর সাথে কথা বলার অনুমতি চাইলে বিডি মিত্র বলেন, ‘সবই যখন জানেন, তখন তার বক্তব্য জেনে আর কি হবে?’ তিনি বলেন, আরো অনেকেই তো বিপুল অর্থে এই নিউইয়র্কে বাড়ি ক্রয় করেছেন। তাদের সংবাদ তো মিডিয়ায় আসে না?

নিউইয়র্কের একটি সূত্র জানায়, বরুণ দেব মিত্রের স্ত্রীল নামের ৩টি বাড়িই নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকা এলাকায়। ৮৭-৩০, ১৬৯ স্ট্রীটের বাড়িটি নাসির আলী খান পলের কাছ থেকে কেনা হয় ২০১২ সালের ২ ফেব্রæয়ারি। এর পুরো মূল্য নগদ ৭,৬০,০০০ ডলারে পরিশোধ করা হয়েছে। ৮৫-২৭, ১৬৮ প্লেস, জ্যামাইকার বাড়িটি একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর সুডলারি ভনপ্রেসকোর নিকট থেকে নগদ ৭,৮৫,০০০ ডলারে ক্রয় করা হয়। ১১৬, ৮১ এভিনিউ, কিউ গার্ডেন্স ঠিকানার বাড়িটি গত বছরের ১২ জুন এক মিলিয়ন ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারে ক্রয় করা হয়েছে। শুধুমাত্র এই বাড়িতে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের মর্টগেজ ঋণ নেওয়া হয়। অবশিষ্ট অর্থ নগদে পরিশোধ করা হয়েছে বিক্রেতা ইয়েলেনা সেডিনাকে।

প্রসঙ্গত, এর আগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের আগের কনসাল জেনারেল শামসুল হকের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়মের সংবাদ মিডিয়ায় এসেছিল। সে সংবাদের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শেষে সেই কনসাল জেনারেলকে প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ক্লোজ করা হয়। এরপর তাকে অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন