বায়ু দূষণে বছরে ৫৫ লাখের বেশি মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। দূষণজনিত এই মৃত্যুর মিছিলের শীর্ষে রয়েছে চীন ও ভারত। ‘গ্লোবাল বারডেন অব ডিজেজ প্রোজেক্ট’ পরিচালিত গবেষণায় এই তথ্য ওঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, অপুষ্টি, স্থূলতা, মদ্যপান ও মাদক দ্রব্য গ্রহণ এমনকি অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের চাইতেও বায়ু দূষণে মুত্যুর হার বেশি। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ চীন ও ভারতে বায়ু দূষণে বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৫৫ শতাংশ হচ্ছে। এ দুই দেশে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যানবাহন থেকে নির্গত ধুঁয়া এবং কয়লা ও কাঠ পোড়ানোর ফলেই বায়ু বেশি মাত্রায় দূষণ হয়ে থাকে।
গবেষণায় বলা হয়, ২০১৩ সালে বায়ু দূষণে চীনে ১৬ লাখ এবং ভারতের ১৪ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে।
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল ব্রাউয়ের বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যুর চতুর্থ ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বায়ু দূষণকে। একইসঙ্গে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশগত ঝুঁকিও এ দূষণ।’
জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়ু দূষণের মাত্রা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করা হয় ওই গবেষণাপত্রে। গবেষণায় সম্পৃক্ত বিজ্ঞানিরা বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে তাদের নাগরিকদের বিশুদ্ধ বাতাস পেতে কিভাবে ও কত দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউটের ড্যান গ্রিনবাউম বলেন, ‘বেইজিং কিংবা দিল্লিতে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়ে গেলে প্রতি কিউবিক মিটার বাতাসে পার্টিকেলের সংখ্যা ৩শ মাইক্রোগ্রামের বেশি থাকে।’
আদর্শ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ মাইক্রোগ্রাম। বাতাসে ভেসে বেড়ানো ছোট কিংবা শক্ত আকারের পার্টিকেল নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে গেলে হৃদরোগ, নিঃস্বাসে সমস্যা এবং ক্যানসারের মতো মারণঘাতি রোগে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ।
গত কয়েক দশকে বায়ু দূষণের মাত্রা কমাতে উন্নত বিশ্ব নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু বায়ু দূষণে জটিল রোগব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে উন্নয়ণশীল দেশগুলোতে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা এখনো আস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।


