ইপিজেড শ্রম আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার, যার মাধ্যমে দর কষাকষির অধিকার এবং স্থায়ী মজুরি বোর্ড পেতে যাচ্ছেন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার শ্রমিকরা।
বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, শ্রম আইন ইপিজেডে প্রযোজ্য নয়, তাই নতুন এই আইন করা হচ্ছে।
২০১৪ সালের ৭ জুলাই ইপিজেড শ্রম আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।
খসড়া এ আইনের ১৬ অধ্যায়ে ২০২টি ধারা রয়েছে জানিয়ে শফিউল বলেন, শ্রমিকদের আর্থিক বিষয়, অবসর, ক্ষতিপূরণ, বছরে দুটি বোনাসসহ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিভিন্ন বিষয় রয়েছে এতে।
“নতুন আইনে সংগঠন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে, যার নাম হবে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি। অন্য ট্রেড ইউনিয়নের মতোই এর মাধ্যমে যৌথ দরকষাকষির অধিকার ও ধর্মঘট করার অধিকারের পাশাপাশি চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
ইপিজেড শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের জন্য একটি স্থায়ী মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।
মন্ত্রিসভায় আজ সোমবার বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৬ এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ট্রেড ইউনিয়নের আদলে কল্যাণ সমিতি করার অধিকার পাচ্ছে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকাগুলোর শ্রমিকেরা। এর মাধ্যমে শ্রমিকেরা দর-কষাকষির অধিকারও পেতে যাচ্ছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
আইন অনুসারে কারখানায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। দুর্ঘটনায় অক্ষম বা আহত হলে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। নারীশ্রমিকদের পূর্ণ বেতনে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই আইন করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) পাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটা সুযোগ তো থাকবেই।’ ।


