বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

মাহমুদুর রহমানকে আটকে রাখা ন্যক্কারজনক: সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

Mahmudur0Rahmanদৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটকে রাখা এ দেশের ‘বিচারিক ইতিহাসে ন্যক্কারজনক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন রিজভী। এ সময় তিনি মাহমুদুর রহমানের মুক্তির জন্য প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

রিজভী বলেন, ‘সব মামলায় জামিন হওয়ার পরও সরকার একটি মানহানির মামলায় পিডব্লিউ বা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার না করার অজুহাত দেখিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অবৈধভাবে আটকে রেখেছে। দুই সপ্তাহ ধরে আটকে রাখার পর গতকাল পিডব্লিউ প্রত্যাহার করা হয়েছে, আজ যখন মাহমুদুর রহমানের মুক্তি পাওয়ার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে মাহমুদুর রহমানকে আরেকটি মামলায় অভিযুক্ত দেখিয়ে আটকে রাখা হলো।’

‘মাহমুদুর রহমানের ওপর সরকারের দেওয়া মামলা-কারা নির্যাতন, নিপীড়ন বন্ধ করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

বিএনপির এ যুগ্ম মহাসচিব দাবি করেন, ‘মাহমুদুর রহমানের পিডব্লিউ নিয়ে সিএমএম যেভাবে ভূমিকা পালন করলেন, তা ন্যায়বিচারের চরম পরিপন্থী। একজন মানুষকে কারাগারে বন্দি রেখে কষ্ট দিতে সরকারের ক্রোধ পরিতৃপ্ত করার সহযোগী হিসেবেই সিএমএম দায়িত্ব পালন করলেন। সিএমএম দুই সপ্তাহ ধরে মাহমুদুর রহমানের পিডব্লিউ প্রত্যাহার করতে অপেক্ষা করেছেন সরকারকে সুযোগ দেওয়ার জন্য, যাতে সরকার পুরোনো একটি মিথ্যা মামলা যে মামলায় মাহমুদুর রহমানের নাম-গন্ধ ছিল না, সেই মামলায় জড়িয়ে তাঁকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায়। এটি এ দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক ন্যক্কারজনক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’

প্রসঙ্গত, দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে নতুন করে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রবিবার রাতে তাকে রাজধানীর শাহবাগ থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলা নং-৫০/১/২০১৩।

এ মামলায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

মাহমুদুর রহমানের আইনজীবীরা জানান, ৭০টি মামলায় জামিন পেয়ে তিনি যখন মুক্তির প্রহর গুণছিলেন তখন তার মুক্তি আটকে দিতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে কারারুদ্ধ আছেন মাহমুদুর রহমান।

তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন গতকাল বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

ফলে তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দায়ের করা ৭০টি মামলার সবকটিতে তিনি জামিনে থাকায় সহসাই তিনি মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছিলেন তার আইনজীবীরা।

মাহমুদুর রহমানের আইনজীবীরা জানান, রবিবার তাকে একটি মামলায় আদালতে হাজির করা হলে তিনি জানান যে বর্তমানে তার শারিরীক অবস্থা খুবই খারাপ। তার ওজন ৬০ কেজির নীচে নেমে গেছে। তার চোয়াল অপারেশন জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন