ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ব-দ্বীপ প্রকাশনীর মালিক শামসুজ্জোহাসহ তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার সিএমএম আদালতে তাদেরকে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করে শাহবাগ থানা পুলিশ। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল হায়দার চৌধুরী তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে দেন।
এর মধ্যে, ব-দ্বীপ প্রকাশনীর মালিক শামসুজ্জোহাকে পাঁচ দিন, ওই প্রকাশনীর কর্মকর্তা ফকির তসলিম উদ্দিনকে দুদিন ও লেখক শামসুল আলম চঞ্চলকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
‘ইসলাম বিতর্ক’ বইটিতে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ হানার উপাদান রয়েছে দাবি করে বাংলা একাডেমির সায় নিয়ে সোমবার রাতে একুশের বইমেলায় ব-দ্বীপের ১৯১ নম্বর স্টলটি বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
এরপর রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানোর আগে শাহবাগ থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার আব্দুল বাতেন।
তিনি বলেন, “গতকাল ৬ কপি বই জব্দ করা হয়েছিল, গ্রেপ্তারের সময় আরও ৭৫ কপি জব্দ করা হয়। আমরা পড়ে দেখেছি, বইটিতে সাংঘাতিকভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে।”
এই বই প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রকাশকের কোনো দুরভিসন্ধি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলার কারণ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “একটি ওয়েবসাইটে এই বইটি অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে, তাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা (মামলা নম্বর-২৩) করা হয়েছে।
সোমবার বইমেলায় ব-দ্বীপের স্টলটি বন্ধ করার পর শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা থেকে পুলিশ জানতে পারে যে ‘ইসলাম বিতর্ক’ বইয়ে ইসলাম ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে।
এরপর অনুসন্ধান চালিয়ে তারা ‘প্রমাণ’ পাওয়ার পর বাংলা একাডেমির সঙ্গে কথা বলে স্টল বন্ধের ব্যবস্থা নেয়।
অন্যদিকে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, “পুলিশ আমাদের বলেছে, ‘ব-দ্বীপ প্রকাশনীর স্টলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে- এমন বই প্রদর্শিত হচ্ছে। স্টলটি নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ্’। এ কারণে প্রকাশনীটির স্টল বন্ধ করা হয়েছে।”ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে ব-দ্বীপ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী শামসুজ্জোহা মানিকসহ তিনজনকে গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ব-দ্বীপ প্রকাশনীর মালিক শামসুজ্জোহা নিজেও একজন লেখক। তার লেখা অধিকাংশ বই তার প্রকাশনী থেকেই বের হয়েছে। এসব বইগুলোর মধ্যে ‘ধর্মের রাজনীতি ও আধুনিক সভ্যতা’, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সমস্যা’, ‘ধর্ম ও যাতাকলে বাঙ্গালী জাতি’, ‘ধর্ম ও বাঙ্গালীর পুনরেকত্রীকরণ’, ‘বাংলাদেশের দুর্বৃত্তায়ন’, ‘নারী ও ধর্ম’, ‘বাংলাদেশের সঙ্কট’, ‘ইসলামের ভূমিকা ও সমাজ উন্নয়নের সমস্যা’, ‘ইসলাম বিতর্ক’, ‘ইসলামে নারীর অবস্থান’ প্রভৃতি।


