কার্ড ক্লোন করে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে এটিএম মেশিন আমদানি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোর কাছে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা দফতর।
মঙ্গলবার দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এটিএম মেশিন সরাসরি অথবা দরপত্র কিংবা অন্য কোনও পদ্ধতির মাধ্যমে কেনা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে।
২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব প্রতিষ্ঠান এটিএম মেশিন এনেছে তাদের নাম, ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর, এটিএম মেশিন সংখ্যা, মেশিনের ব্র্যান্ড ও মডেল, আমদানির সময় কী পরিমাণ উৎসে কর দেওয়া হয়েছে এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেওয়ার জন্য চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, বৈধ প্রক্রিয়ায় যে পরিমাণ এটিএম মেশিন আমদানি হয়েছে তার চেয়ে বেশি মেশিন দেশের ব্যাংকগুলোর কাছে রয়েছে। বাকি মেশিন কীভাবে আনা হয়েছে- এই বিষয়টি জানতে ব্যাংকগুলোর কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, দেশে তিন ধরনের এটিএম মেশিন ব্যবহৃত হয়। এনসিআর, উইংকর ও জিআরজি। কিছু আসে জার্মানি থেকে। বাকি চীন থেকে। এটিএম কার্ড দু’ধরনের। একটি হচ্ছে ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ। অন্যটি চিপ কার্ড। এসব কার্ডের ভেতরে কালো দাগ আছে, যেখানে তথ্য সংরক্ষণ থাকে। ম্যাগনেটিক সহজেই নকল করা যায়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকের সংরক্ষিত তথ্য চুরি করা যায়।
সম্প্রতি তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে স্কিমিং ডিভাইস ব্যবহার করে গ্রাহকের টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর এটিএম মেশিনের গুণগত মান, কী পরিমাণ এটিএম বুথ আছে ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে এনবিআর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বর্তমানে ৫৩টি ব্যাংকের প্রায় সাত হাজার এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথ চালু আছে। অথচ বৈধ প্রক্রিয়ায় এই পরিমাণ এটিএম মেশিন আমদানির তথ্য এনবিআরের কাছে নেই।
প্রাথমিকভাবে এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আমদানির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখেছেন, গত তিন বছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ২২টি এটিএমের চালান খালাস হয়েছে। ওই সব চালানে মাত্র ৫০০ এটিএম আনা হয়েছে। এটিএম মেশিন দেশে চালু হয়েছে আরও দশ বছর আগে। তবে তিন বছরের আগে যেসব এটিএম মেশিন আমদানি হয়েছে সেগুলোর তথ্য কাস্টমস গোয়েন্দাদের কাছে নেই। তারা বলছেন, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে দেশে এটিএম মেশিন আমদানি করা হয়েছে। হয়ত এগুলোর মান তেমন ভালো নয়। এসব মেশিন কীভাবে এসেছে, সেটি কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদফতর খতিয়ে দেখছে।
সূত্র জানায়, এলসি ছাড়াই নমুনা বা স্যাম্পলের নামে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এটিএম আনা হয়েছে। এটিএম স্থাপনে কম্পিউটার যন্ত্রাংশের মতো অনেক ছোট ছোট যন্ত্রাংশ আছে।
নিয়ম অনুযায়ী, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক হার কম। এ কারণে কম্পিউটারের নামে মিথ্যা ঘোষণা দিয়েও এটিএম আনা হয়েছে।


