পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে দেশটিতে নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ পেয়েছেন শ্রীলঙ্কায় হাইকমিশনারের দায়িত্বে থাকা তারিক আহসান। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার এই নিয়োগের কথা জানানো হয়। পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাই কমিশনার পদে তিনি সোহরাব হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। সোহরাবের দায়িত্বের মেয়াদ এপ্রিলেই শেষ হচ্ছে।
বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের নবম ব্যাচের কর্মকর্তা তারেক আহসান এর আগে নিউ ইয়র্ক, রিয়াদ, জাকার্তা ও বার্লিনে বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে কূটনৈতিক পেশায় আসা এই কর্মকর্তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা উইংয়ের মহা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তারেক আহসান হেগের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশাল স্টাডিজে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন নিয়েও লেখাপড়া করেছেন।
বিদায়ী হাইকমিশনার সোহরাব হোসেন একজন পেশাদার কূটনীতিক হলেও তিনি পাকিস্তানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর ২০১০ সালে তাকে দুই বছরের চুক্তিতে পাকিস্তানে পাঠায় সরকার। এই মুক্তিযোদ্ধার চুক্তির মেয়াদ পরে আরও দুই দফা বাড়ানো হয়। তবে গত গত বছরের শেষ দিকে ঢাকা-ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক ‘বাদানুবাদের’ সময় দেশে অবস্থান করছিলেন সোহরাব হোসেন।
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গ ও ঢাকায় পাকিস্তান হাই কমিশনের এক কূটনীতিকের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গি সম্পৃক্ততা’র অভিযোগ ওঠার পর ওই ‘বাদানুবাদ’ সৃষ্টি হয়।ডিসেম্বরে এক চিঠিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাই কমিশনার সোরাবকে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশে ফেরার জন্য চিঠি দেয়।
ওই সময় ইসলামাবাদে হাই কমিশনার সুহরাবের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কনিষ্ঠ কূটনীতিক মৌসুমী রহমানকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখোমুখি হতে হয়। নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ ডিসেম্বর তাকে ৪৮ ঘণ্টার নোটিসে পাকিস্তান ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয় দেশটি।


