আগামী ২০ ফেব্রয়ারি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)’র দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চলমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিকদের প্রিয়মুখ কুদ্দুস আফ্রাদ। নির্বাচনের আগের দিন তার ফেসবুক পোস্টে ভোটারদের প্রতি একটি ‘কৈফিয়ত’ দিয়েছেন।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমের পাঠকদের প্রতি তা হুবহু প্রকাশ করা হল:
আমার কৈফিয়ত
প্রিয় সাংবাদিক সহকর্মীবৃন্দ,
আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালবাসা নেবেন। ২০ ফেব্রুয়ারী, শনিবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এর নির্বাচন।
দুই বছর আগে আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা সাংবাদিকদের অকৃত্রিম বন্ধু, বরেণ্য সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে আমি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) এর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলাম। আপনারা আমাদের প্রিয় নেতার আহবানে সাড়া দিয়ে আমাদের প্যানেলকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিলেন। আপনাদের রায় পেয়ে আলতাফ ভাই এবং আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি সাংবাদিকদের দাবী আদায় এবং মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন এগিয়ে নিতে। আমরা অনেকগুলি দাবী আদায় করতে পেরেছি, কিছু কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে, যা এগিয়ে নিতে পারলে আগামীতে আপনারা এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।
অর্থনীতি প্রতিদিন, দৈনিক জনপদ, আলোকিত বাংলাদেশ, দৈনিক বর্তমান, ডেইলি সান, পত্রিকার চাকুরীচ্যুত সাংবাদিক কর্মচারীদের পাওনা আদায় করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। আমাদের দাবির মুখে সাংবাদিক প্রবীর শিকদারকে মাত্র একদিনের আলটিমেটামে পুলিশ জেল থেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে ।
জাতীয় প্রেসক্লাব দীর্ঘদিন ধরে কোটারি শ্রেণির কুক্ষিগত ছিল। সাধারণ সাংবাদিকদের সদস্যপদ পাওয়া যেন ছিল দুঃস্বপ্ন। আপনাদেরকে সাথে নিয়ে এ দুঃস্বপ্নের দেয়াল ভাঙতে আমরা সক্ষম হয়েছি। বহু সংখ্যক সাংবাদিক বন্ধু সদস্যপদ পেয়েছেন এবং আগামীতে আরো অনেকে সদস্যপদ লাভ করবেন। সেই দাবি ইতিমধ্যে আমরা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেছি। আমাদের প্রচেষ্টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের লবিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি যথাযথ মর্যাদায় স্থাপিত হয়েছে।
সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির সঙ্গে-সঙ্গেই আমরা সাংবাদিকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামোর দাবী জানিয়েছি। ইতিমধ্যে ৯ম ওয়েজ বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা চলতি বছর থেকেই বৈশাখী উৎসব ভাতার দাবিও করেছি।
প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ,
আমাদের প্রিয় নেতা আলতাফ ভাইকে হারানোর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে শেষ সময়ের কাজগুলো করতে হয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই, শেষ সময়ে আমরা অনেকের সহযোগিতা পেয়েছি, আবার অনেকের কাছে চেয়েও পাইনি। আপনারা জানেন,বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করে অনুষ্ঠানটি সার্থক ও সুন্দর করেছেন। ১৯৭৩ সালে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরে এই প্রথম কোনও রাষ্ট্রপতি সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করলেন। এই কৃতিত্বের অংশীদার আপনারাও।
প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ,
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং ভোটের আয়োজন করতে হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণের মতো বড় আয়োজন সম্পন্ন করতে আমাকে এবং আমার সহযোদ্ধাদেরকে অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সময় ব্যয় করতে হয়েছে। আয়োজন সুন্দর ও সার্থক করতে আমার এবং আমার সহযোদ্ধাদের আন্তরিকতার কোনও ঘাটতি ছিল না। তবুও এই আয়োজনে কিছু ঘাটতি বা ভুল হয়ে থাকতেও পারে। এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। মুলত, এ কারণেই নির্বাচনী প্রচারণার কাজে আমি এবং আমাদের সহযোদ্ধারা খুব বেশি সময় দিতে পারিনি। এই স্বল্প সময়ে আমরা প্রানান্তকর চেষ্টা করেছি, আপনাদের সবার কাছে উপস্থিত হতে। অনেকের কাছে উপস্থিত হতে পেরেছি, অনেকের কাছে পারিনি। সময় আমাকে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে। আপনারা আমার এই অক্ষমতাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা রাখি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
আমি আপনাদের ভাই, বন্ধু। আপনাদের সাথে ছিলাম এবং আছি। দু’বছর আপনাদের দেয়া দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থেকেছি। আপনাদেরকে নিয়ে সাধ্যমতো আন্দোলন সংগ্রামে সচেষ্ট ছিলাম। চেষ্টা করেছি সকল লোভের উর্ধ্বে থেকে পরিচ্ছন্নভাবে ইউনিয়ন পরিচালনা করতে।
আমি কেমন মানুষ, কতটুকু যোগ্যতা- এসব নিয়ে নিজের ঢোল নিজে পেটানো সমীচিন মনে করি না। আপনারাই এর বিচার করবেন। শুধু এটুকু চাইবো, যদি আপনাদের বিচারের মানদন্ডে আমাকে উর্ত্তীণ মনে করেন, তাহলে ২০ ফেব্রুয়ারী (শনিবার) আমাকে এবং আমার প্যানেলের সকল প্রার্থীকে আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিয়ে বাধিত করবেন। আপনার প্রদত্ত সমর্থন, ইউনিয়নের আগামীর পথচলায় পাথেয় হয়ে থাকবে। ভালো হোক সবার।
নিবেদক-
কুদ্দুস আফ্রাদ
সভাপতি পদপ্রার্থী
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)


