কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। একুশে ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টার দিকে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে নিজের ডাকা লাগাতার অবরোধের মধ্যে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে যাননি বিএনপি চেয়ারপারসন। তার উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধিদল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিল। দশম সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে কর্মসূচি ঘোষণার পর গতবছর ৩ জানুয়ারি থেকে টানা ৯২দিন গুলশানের কার্যালয়ে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
এবার ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে যাত্রা করে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িবহর। ১২টা ৫০ মিনিটে সেটি শিক্ষাভবন মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ গতিরোধ করে। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট বাকবিতণ্ডার পর তারা আবার যাত্রা শুরু করেন। এবার দোয়েল চত্বরে আবার পুলিশি বাধা মুখে পড়তে হয়। পরে ছেড়ে দিলে গাড়িবহর শহীদমিনারের দিকে যাত্রা শুরু করে।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহর আটকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভিড় রয়েছে। একারণে তাদেরকে কিছুক্ষণ সময় দিতে হবে। হাই কোর্ট মোড় ও দোয়েল চত্বরে দুই দফায় প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে। পরে রাত দেড়টার দিকে নেতা-কর্মীদের নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দেন তিনি।
খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে একই বহরে দুটি বড় বাসে যান দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, আসম হান্নান শাহ, জমির উদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তাদের সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শাহজাহান ওমর, আবদুল মান্নান, মীর নাসির, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, আবদুল হালিম, আবদুল কাইয়ুম, এজেডএম জাহিদ হোসেন, সুজাউদ্দিন, আমান উল্লাহ আমান, মাহবুবউদ্দিন খোকন, মোহাম্মদ শাহজাহান, রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, জয়নুল আবদিন ফারুক, খায়রুল কবীর খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুর রহমান হাবিব, হাবিবুল ইসলাম, সেলিম রেজা হাবিব, আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার।
এছাড়া অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে শিরিন সুলতানা, রেহানা আখতার রানু, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, শ্যামা ওবায়েদ, রাজীব আহসান, আকরাম হাসান প্রমুখ ছিলেন খালেদার গাড়িবহরে।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন আসবেন জেনে দোয়েল চত্বরের কাছে জড়ো হয় দলটির কয়েকশ’ নেতা-কর্মী। ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে তারা সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন দলের নেত্রীর জন্য।


