এটিএম বুথে জালিয়াতি করে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্তে দোষ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ।
রোববার ঢাকার গুলশান থেকে এক বিদেশির সঙ্গে বেসরকারি এই ব্যাংকটির আইটি শাখার তিন কর্মীকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার তাদের সাংবাদিকদের সামনে আনে পুলিশ।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এটিএম মেশিনের মাধ্যমে তথ্য চুরি করে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে ইউনাইটেড কর্মার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) যে মামলা করেছিল, তার সঙ্গে সিসি ক্যামেরা ধারণ করা ভিডিও-ও দিয়েছিল।
এরপর সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষও পল্লবী থানায় একটি মামলা করে।
পুলিশ ভিডিও দেখে পোল্যান্ডের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসা ইউক্রেইনের এক ব্যক্তির সঙ্গে এটিএম জালিয়াতিতে জড়িত অভিযোগে সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকেও গ্রেপ্তার করেছে।
বেসরকারি ব্যাংকটির আইটি শাখার এই তিন কর্মকর্তা হলেন মোকসেদ আলী মাকসুদ, রেজাউল করিম শাহীন, রেফাত আহমেদ রনি।
এরা তিনজন মার্চেন্ট অ্যাকোয়ার্ড জোনের পয়েন্ট অফ সেল (পস) লেনদেন সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বে রয়েছেন বলে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান।
গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না- জানতে চাইলে সিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সোহেল আর কে হোসাইন বলেন, “তাদের গ্রেপ্তারের খবর পুলিশ আমাদের দিয়েছে। কিন্তু কী অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলেনি। আমরাও বিষয়টি তদন্ত করছি। যেই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
“আমাদের চারজন কাস্টমারের খোয়া যাওয়ার এমাউন্টটা ছোট হলেও আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছি।”
সিটি ব্যাংক ও ইউসিবির পাশাপাশি ইস্টার্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে জালিয়াত চক্র।
তিনটি ব্যাংকের ছয়টি এটিএম বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে ওই তথ্য ব্যবহার করে ‘ক্লোন’ এটিএম কার্ড তৈরির মাধ্যমে এই জালিয়াত চক্র অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই যন্ত্র বসানো অবস্থায় বুথগুলোতে ১২০০ কার্ডের লেনদেন হয়েছে। আর এ পর্যন্ত ৪০টি কার্ড ক্লোন করে গ্রাহকের প্রায় ২০ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য গোয়েন্দারা পেয়েছেন বলে তথ্য এসেছে গণমাধ্যমে।


