শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অসদাচরণের দায়ে বরখাস্ত হয়েও নিয়মিত অফিস করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় তাকে বরখাস্ত করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রসিকিউটর বলেন, তার পেশাগত আচরণ প্রসিকিউশন টিমের কাজকে প্রভাবিত করতে পারতো। মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গঠিত প্রসিকিউশন টিমে তার আচরণ নিয়ে অবহিত হওয়ার পর মোহাম্মদ আলীকে অব্যাহতি দেন চিফ প্রসিকিউটর। পরে আইন মন্ত্রণালয় মোহাম্মদ আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। এর পরেও তিনি কেন অফিসে আসছেন এ বিষয়টি আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা আশা করছি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীর দায়িত্বে থাকা সকল নথি-পত্র চিফ প্রসিকিউটর বরাবর জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীকে ট্রাইব্যুনালের সব মামলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ‘জনস্বার্থে’ উল্লেখ করে তাকে মামলা থেকে প্রত্যাহার করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু।
পরে চিফ প্রসিকিউটরের একটি চিঠি আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় মোহাম্মদ আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
চিফ প্রসিকিউটরের সেই চিঠিতে বলা হয়, ‘নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে তার (মোহাম্মদ আলী) বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি ভঙ্গ এবং পেশাগত অসদাচরণের গুরুতর অপরাধের অভিযোগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।’
এদিকে বরখাস্ত হওয়ার পরও অফিসে যাতায়াতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। বলেন, ‘আমাকে সাময়িক বরখাস্তের যে সিদ্ধান্ত আইন মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়েছে তার কোনো লিখিত নির্দেশ আমি এখনও হাতে পাইনি। তাই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে আমি সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছি। নিয়মিত ট্রাইব্যুনালে আসছি। অফিস করছি। মামলার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও আমি প্রসিকিউটর হিসেবেই এখনো আছি।’
তিনি বলেন, ‘আনীত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অফিসের নিয়ম আমাকে মেনে চলতে হবে।’
এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল শাহীন বলেন, ‘বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে মোহাম্মদ আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্তসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সালে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ নিজের কম্পিউটার থেকে তথ্য চুরির সন্দেহে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ নিয়ে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী বেশ আলোচনায় আসেন। ওই সময় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের জন্য প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী নিজেও একটি পাল্টা জিডি করেন।’
মোহাম্মদ আলী জিডির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের একই কক্ষে তিনি এবং প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ অফিস করেন এবং ওই কক্ষের কম্পিউটার থেকেই তথ্য চুরির সন্দেহের কথা বলেছেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ।


