এক-এগারোর সময় দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে মাইনাস টু ফর্মুলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বর্তমানে ক্ষমতাসীন দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা জড়িত ছিলেন- এমনটাই দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘মাইনাস টু ফর্মুলার সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা জড়িত ছিল। তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না, অথচ পত্রিকার সম্পাদকদের জড়িত করা হচ্ছে। যাদের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত সেই সাংবাদিকদের প্রতি অসম্মান দেখানো হচ্ছে।’
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অল কমিউনিটি ফোরাম আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।
২০০৭ সালে সেনাবাহিনী পরোক্ষভাবে ক্ষমতা দখলের পর শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে বাদ দেয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে, যা মাইনাস টু ফর্মুলা নামে পরিচিতি পায়। আওয়ামী লীগ বিএনপি উভয় দলের কয়েকজন নেতা সে সময় এতে মদত জুগিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শাহ মোয়াজ্জেম।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে স্বীকার করেন, ওই সময় একটি গোয়েন্দা সংস্থার সরবরাহকৃত তথ্য তিনি যাচাই না করেই ছেপে দিয়েছিলেন। এসব তথ্য বেশিরভাগই ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে সারাদেশে শখানেক মানহানির মামলা হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও তার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। একই সঙ্গে প্রথমআলো সম্পাদক মতিউর রহমানকেও একইভাবে অভিযুক্ত করেছেন।
এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণেরও বিরোধিতা করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি কেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যাচ্ছে? জাতীয় নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কি শিক্ষা হয়নি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নির্বাচন কমিশন কি সেটা কি আমরা এখনো বুঝিনি?’
শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, ‘৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে না গিয়ে এই অবৈধ সরকারকে মেনে নেয়া বিএনপির জন্য একটি বড় ব্যর্থতা। পরবর্তীতে আবার সেই সরকারের অধীনেই সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনে গিয়ে বিএনপি আরো একটি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. কাবিরুল হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।


