সিরিয়ায় দীর্ঘ পাঁচ বছর গৃহযুদ্ধ চলার পর গত মধ্যরাত থেকে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষ গুলো এটি মেনে চললে এটাই হবে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে লড়াইয়ের প্রথম বিরতি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সব পক্ষকেই যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলার আহবান জানিয়েছে।
সংস্থাটি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তৈরি এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অবশ্য সিরিয়ার সরকার ও রাশিয়াকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে সারা বিশ্ব বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।
দ্য হাই নেগোসিয়েশন কমিটি (এইচএনসি) বলেছে, ফ্রি সিরিয়ান আর্মি এবং সশস্ত্র অন্যান্য আসাদবিরোধী দলগুলো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেছে।
সিরিয়ায় সাময়িকভাবে এ লড়াই বন্ধ থাকবে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকার এবং বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর মধ্যে। তবে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট নুসরা ফ্রন্ট এ বিরতির আওতায় নেই।
বিদ্রোহীদের মত জানিয়ে এইচএনসি বলেছে, বিরতির সময় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে সিরিয়া সরকার ও এর মিত্রদের লড়াই চালিয়ে যাওয়া উচিত হবে না।
সিরিয়ার যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সিরিয়ার সংঘর্ষে যেসব পক্ষ যুদ্ধবিরতি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে এবং শর্ত মেনে নিয়েছে তাদের ক্ষেত্রেই এ বিরতি প্রযোজ্য হবে’।
ওদিকে জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ইয়ান এলিয়াসন বলছেন, যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা খুব একটা সহজ হবে না।
তিনি বলেন, ‘লড়াই বন্ধের ওই প্রক্রিয়ায় যদি আল নুসরা বা আইএস নিয়্ন্ত্রিত এলাকাগুলো না পড়ে তাহলে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সত্যিই অনেক চ্যালেঞ্জের বিষয় হবে এবং পরবর্তীতে তার মুখোমুখি হতে হবে। সবাই যদি একত্রিত না হয় তাহলে পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।
ওদিকে সিরিয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্ট্যাফান ডি মিসটুরা বলেছেন যুদ্ধবিরতি মেনে চললে আগামী ৭ মার্চ থেকে শান্তি আলোচনা আবার শুরু হবে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সময়সীমার আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবারেও রাশিয়ান বিমানগুলো সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অবস্থানের ওপর জোরদার আক্রমণ চালিয়েছে।
লড়াই বন্ধের অন্তিম সময়ে এসেও বিদ্রোহী অবস্থানগুলোতে আগের চেয়েও বেশি বিমান হামলা চালায় রাশিয়া। আলে্প্পো প্রদেশের পশ্চিমে এবং হোমস প্রদেশের উত্তরে দামেস্কের পূর্বে ইস্টার্ন ঘৌতা এলাকায় ঘন ঘন রুশ বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ‘দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’।
অবজারভেটরির প্রধান রমি আব্দেল রহমান বলেন, সচরাচর যে রুশ বিমান হামলা হয় এ হামলা তারও চেয়েও ব্যাপকমাত্রায় চালিয়েছে।
তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলছেন, রুশ বাহিনী আইএস, নুসরা ফ্রন্ট এবং অন্যান্য কট্টর দলগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
এ দলগুলোর ওপর হামলা চালানোর বৈধতা জাতিসংঘ দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের ওপর নিঃসন্দেহে চূড়ান্ত লড়াই চলবে।’
সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো গত ১২ ফেব্রুয়ারি একমত হয়েছিলো।


