বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

রূপালী ব্যাংকের টাকা আত্মসাত: ৩ জনের ৫ বছর কারাদণ্ড

rupalibankরূপালী ব্যাংকের ৯০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাসহ তিনজনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। দুই যুগ আগে ঘটা এই ঘটনায় আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর রুহুল আমীন রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে কারাদ্ণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩০ লাখ ১২ হাজার ৪৬৪ টাকা করে জরিমানা করা হয়; জরিমানার টাকা অনাদয়ে তাদেরকে আরও ছয়মাস করে কারাবাসের আদেশ দেওয়া হয় বলে জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রূপালী ব্যাংক আমীর মার্কেট শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক একেএম লুৎফুল করিম, মুসলিম অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মাহমুদুল ইসলাম ও মেট্রো গৃহনির্মাণ সমবায় লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

এদের মধ্যে জাকির হোসেন ছাড়া বাকি দুইজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

আইনজীবী মেজবাহ বলেন, এই তিনজন ১৯৯২ সালে পারস্পরিক যোগসাজশে রূপালী ব্যাংকের ব্যাংকের ৯০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আবুল কালাম, আবু কাউসার চৌধুরী ও আবুল হাশেম নামে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন বিচারক।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, রূপালী ব্যাংকের আমীর মার্কেট শাখার ব্যবস্থাপক থাকার সময়ে লুৎফুল করিম চট্টগ্রামের হাজী সোনা মিয়া মার্কেটের মেসার্স রাসেল অ্যান্ড ব্রাদার্সের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে একটি চলতি হিসাব খোলেন, যাতে স্বাক্ষর ছিল মুসলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের কর্মচারী মাহমুদুল ইসলামের।

ওই একাউন্ট থেকে তারা এক কোটি ৬৫ লাখ ১৫ হাজার ৯১৫ টাকা তোলেন। এরপর ৭৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫১৬ টাকা জমাও দেয়। ফলে ৯০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৮ টাকা আত্মসাৎ করেন।

ঘটনা জানাজানি হলে তা ধামাচাপা দিতে জাকির হোসেনের যোগসাজশে একটি পাহাড়ি জমির নকল দলিল বানিয়ে ব্যাংকে জমা দিলে তা ধরা পড়ে।

অভিযোগ আসার পর ওই ব্যাংক কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হন।

আইনজীবী মেজবাহ বলেন, পরস্পরের যোগসাজশে আসামিরা ১৯৯২ সালের ১৪ জুলাই থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (তৎকালীন ব্যুরো) সহকারী পরিচালক মোল্লা মো. নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৯৯৪ সালের ২৮ অগাস্ট দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭ সালের ৫ এর ২ , ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় মামলা করেন।

১৯৯৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আাদলতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং ২০০২ সালের ২১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়।

চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে মঙ্গলবার এ রায় দেয় আদালত।

আরও পড়ুন