রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » খেলা » পাকিস্তানকে বিদায় করে স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ
বিশেষ নিউজ

পাকিস্তানকে বিদায় করে স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ


NEWSWORLDBD.COM - March 3, 2016

Bangladesh’s Al–Amin Hossain, lifts teammate Sabbir Rahman as they celebrate the dismissal of Pakistan’s Khurram Manzoor during their Asia Cup Twenty20 international cricket match in Dhaka, Bangladesh, Wednesday, March 2, 2016. (AP Photo/A.M. Ahad)

Bangladesh’s Al–Amin Hossain, lifts teammate Sabbir Rahman as they celebrate the dismissal of Pakistan’s Khurram Manzoor during their Asia Cup Twenty20 international cricket match in Dhaka, Bangladesh, Wednesday, March 2, 2016. (AP Photo/A.M. Ahad)

২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল। ২ রানের জন্য কেঁদেছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। সেটাও ছিল মার্চের এক দিন। মাঠও ছিল মিরপুর শের-ই-বাংলা। সেখানেই নির্মম প্রতিশোধ নিলো টাইগাররা। শাসরুদ্ধকর ম্যাচে পাকিস্তানকে বিদায় করে দিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে গেলো মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ৬ মার্চ ভারতের বিপক্ষে শিরোপার জন্য লড়বে টাইগাররা। ৫ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। তুলে নিয়েছে ১৩১ রান। বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে ১২৯ রানে আটকে দিয়েছিল স্বাগতিকরা। এরপর ম্যান অব দ্য ম্যাচ সৌম্য সরকারের ৪৮, মাহমুদুল্লার ১৫ বলের অপরাজিত ২২, মাশরাফির ৭ বলে অপরাজিত ১২ রান অসাধারণ একটি জয় ছিনিয়ে এনেছে।

শহীদ আফ্রিদি জুয়াটা খেললেন। বাংলাদেশের তখন ১৮ বলে ২৬ রান দরকার। ৬ উইকেট আছে। মোহাম্মদ আমিরের শেষ ওভারটি তোলা ছিল। ১৮তম ওভারে আমিরকে আনা হলো। দ্বিতীয় বলে সাকিব আল হাসান (৮) বোল্ড! মাশরাফি বিন মুর্তজা এসে পরের দুই বলে বাউন্ডারি মেরে দিলেন! মূল্যবান ৮ রান এই ওভারে।

শাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। আফ্রিদিরা মিটিং করেন মাঠে। ১২ বলে ১৮ ঠেকাতে হবে! মোহাম্মদ সামি বোলার। মাহমুদুল্লা ও মাশরাফি কি করবেন? প্রথম ৩ বলে ৩। পরের বলটি নো। ৩ রান। ফ্রি হিটে ১। পঞ্চম বলে ২। আবার নো। মাহমুদুল্লার বাউন্ডারি! তার প্রতিক্রিয়ায় মনে হয় ম্যাচটা জিতে গেছেন! শেষ বলে ১। এই ওভারে ১৫! জয়ের মতোই তো!

শেষ ওভারে ৩ রান দরকার। প্রথম বলেই মাহমুদুল্লার বাউন্ডারি! দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ! ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদুল্লা। শিরোপা জেতাতে পারেননি। জয়সূচক রানটি তার কাছে প্রতিশোধের মতোই!

বাংলাদেশের সামনে ১৩০ রানের টার্গেট। তামিম ইকবাল (৭) এই ম্যাচেই ফিরেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই মোহাম্মদ ইরফানের বলে এলবিডাব্লিউর শিকার হয়েছেন। এরপর ৩৩ রানের জুটি হয়েছে সাব্বির রহমান ও সৌম্যের মধ্যে। তারা ঠাণ্ডা মাথায় খেলছিলেন। কিন্তু শহীদ আফ্রিদির একটি বল বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়েছেন সাব্বির (১৪)। খেলার ধারার বিপরীতে উইকেট পেয়েছে পাকিস্তান।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩৪ রান ১ উইকেটে। ৯ ওভারে ৫০ ২ উইকেটে। এই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া পেসার আনোয়ার আলিকে টার্গেট করলেন সৌম্য। ১০ম ওভারে চোখ জুড়ানো একটি করে ছক্কা ও চার মারলেন। ওই ওভারে আসলো ১৫ রান। আফ্রিদিকেও পরের ওভারে আক্রমণ করলেন সৌম্য। বোঝা যাচ্ছিল এটা ফর্মে ফেরা সৌম্যের দিন। মুশফিকুর রহিম খেলতে দিচ্ছিলেন সৌম্যকে। চমৎকার বোঝাপড়ার ৩৭ রানের পার্টনারশিপ হয়েছে। কিন্তু পরপর দুই ওভারে তাদের হারিয়ে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটিটা পাননি সৌম্য। ৪৮ বলে ৪৮ রান করে মোহাম্মদ আমিরের বলে বোল্ড হয়েছেন। শোয়েব মালিক তুলে নিয়েছেন মুশফিককে (১২)। এরপর নানা নাটক এবং ফাইনালে বাংলাদেশ।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামলো পাকিস্তান। ব্রেক থ্রু এনে দিতে জানেন আল-আমিন হোসেন! ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে এই পেসার নিজের প্রথম বলেই তুলে নিয়েছেন খুররম মাঞ্জুরের (১) উইকেট! উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন তিনি। ১ রানেই ১ উইকেট নেই পাকিস্তানের। টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয়বার প্রথম ওভারেই উইকেট পেলেন আল-আমিন। বাঁ হাতি স্পিনার আরাফাত সানি এই টুর্নামেন্টে আজই প্রথম সুযোগ পেয়েছেন। আর আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন নিজের পঞ্চম বলে শারজিল খানকে (১০) পরিস্কার বোল্ড করে। আল-আমিনকে একটি ছক্কা মারার পর সানিকে একটি বাউন্ডারি মেরেছিলেন শারজিল। পঞ্চম ওভারে নিজেই বল হাতে নেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। পঞ্চম বলে মোহাম্মদ হাফিজ (২) হয়ে যান এলবিডাব্লিউর শিকার। ১৮ রানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেটে ২০ রান পাকিস্তানের। প্রতিপক্ষকে টাইগার বোলাররা দারুণভাবে চেপে ধরেছিলেন। পুরোই ব্যাটিং উইকেটে খেলা। কিন্তু দারুণ বুদ্ধিমত্তায় বোলিং পরিবর্তন করে যাচ্ছিলেন মাশরাফি। বোলাররাও আত্মবিশ্বাসী বোলিং করছিলেন। নবম ওভারে চতুর্থ উইকেট পায় টাইগাররা। তাসকিন আহমেদকে তুলে মারতে গেলেন উমর আকমল (৪)। ক্যাচটা সহজেই নিলেন সাকিব আল হাসান। ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে আরো চাপে পড়ে পাকিস্তান। এরপর শোয়েব ও সরফরাজ উইকেট পতন ঠেকিয়েছেন। খেলা থেকে প্রায় ছিটকে পড়া পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন তারা।

১৩ ওভারে পাকিস্তানের রান ছিল ৪ উইকেটে ৫৪। এরপর প্রতি ওভারে দুই অঙ্কের রান উঠছিল। তবে ১৭তম ওভারে শোয়েব-সরফরাজের ৭০ রানের জুটি ভেঙ্গেছেন সানি। সাব্বির রহমান শোয়েবের (৪১) ক্যাচ নিয়েছেন। পরের ওভারে আল-আমিন পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিকে (০) তুলে নিলে আবার বাংলাদেশ চাপ দিতে থাকে। শোয়েব ও সরফরাজের কারণেই শেষ ৭ ওভারে ৭৫ রান তুলেছে পাকিস্তান। সরফরাজ ৫৮ রানে অপরাজিত থেকেছেন। আল-আমিন ২৫ রানে ৩, সানি ৩৫ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। তাসকিন ১৪ রানে ও মাশরাফি ২৯ রানে একটি করে উইকেট পেয়েছেন। বোলারদের সাফল্যকে ম্লান হতে দেননি ব্যাটসম্যানরা। শেষ পর্যন্ত টাইগাররা উঠেছে এশিয়া কাপের ফাইনালে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.