বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

কাপড়-জুতা দেখে লাশ শনাক্ত করলেন মা

gaibandha_burnt_dead_body_5955পোড়া লাশের ছবি পত্রিকায় দেখে শরীয়তপুর থেকে গাইবান্ধায় ছুটে যান মা আয়েশা বেগম। সেখানে লাশের সঙ্গে উদ্ধার কাপড় ও জুতা দেখে শনাক্ত করলেন এটিই তার ছেলে আবির হোসেনের (২০) লাশ।

ঢাকার অদূরে সাভারের একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আবিরসহ দু’জনকে প্রায় দেড় মাস আগে অপহরণ করা হয়েছিল। অপহৃত অপর যুবক আবিরের মেসমেট।

এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় অপহরণের মামলা দায়েরের পাশাপাশি হন্যে হয়ে ছেলের খোঁজ করেন আয়েশা বেগম।

সম্প্রতি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি ব্রিজের গমক্ষেতে পুড়িয়ে হত্যা করা দুই যুবকের ছবি ছাপা হয় পত্রিকায়। ছবির সঙ্গে ছেলে আবিরের চেহারার মিল দেখে বৃহস্পতিবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ছুটে যান মা আয়েশা।

সেখানে লাশ থেকে উদ্ধার হওয়া পরনের কাপড় ও জুতা দেখে তিনি নিশ্চিত হন তার সন্তানকেই পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ সময় আবিরের সঙ্গে থাকা আরেক যুবকের পরিচয়ও শনাক্ত করেন আয়েশা বেগম। তিনি হলেন- শেরপুর জেলা সদরের বাগপাশা গ্রামের মৃত শাহাদত হোসেনের ছেলে শাকিব মিয়া (২৫)।

আয়শা বেগম জানান, তার ছেলে আবির হোসেন ঢাকার সাভার কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্র। আশুলিয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। অপর যুবক শাকিব ছেলের সঙ্গে একই বাসায় থাকতেন। পেশায় তিনি বাসচালক।

ছেলে আবিরকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করলে তাকে উদ্ধারে চেষ্টার পাশাপাশি তিনি আশুলিয়া থানায় একটি অপহরণের মামলা করেন।

তবে কি কারণে আবির ও শাকিবকে অপহরণ ও হত্যা করা হয়েছে তার কিছুই জানেন না আয়েশা বেগম।

গত ২১ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি ব্রিজ এলাকার (হাওয়াখানা) করতোয়া নদীর সিসি ব্লকের পাশের গমক্ষেত থেকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা ২০-২৫ বছরের অজ্ঞাত দুই যুবককের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই মো. আব্দুল গফুর বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুল গফুর জানান, ময়নাতদন্ত শেষে ৩ দিন পর লাশ দুটি আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে জেলা শহরের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তাদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। অপহরণ মামলার সূত্র ধরেই আবিরের মা গোবিন্দগঞ্জ থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তাদের পরনে জিন্স ও গ্যাবাডিন কাপড়ের প্যান্ট ও শরীরে জ্যাকেট ছিল। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

আরও পড়ুন