গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের টাকা লুটের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তাররা এই ডাকাতিতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এরা হলেন- কালিয়াকৈর উপজেলার বাসিন্দা মিন্টু ও বোর্ডবাজার এলাকার বাসিন্দা নাইমুল ইসলাম।
কালিয়াকৈর থানার ওসি আব্দুল মোতালেব মিয়া জানান, শুক্রবার ভোরে কালিয়াকৈর রাখালিয়াচালা থেকে মিন্টুকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে বোর্ডবাজার এলাকা থেকে নাইমুলকে আটক করা হয়। তিনি বলেন, “তারা টাকা লুটের ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে লুটের ঘটনায় আরও ছয় জনের তথ্য দিয়েছে।”
এর মধ্যে লুট হওয়া টাকা বহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রাংক পাওয়া গেলেও এখনো টাকার মেলেনি বলে জানান তিনি।
বুধবার গভীর রাতে কালিয়াকৈরের হরিণহাটি এলাকায় এই লুটের ঘটনায় ওই ব্যাংকের নিরাপত্তা ও এটিএম ব্যবস্থাপনা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মানিপ্ল্যান্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আফজালুল আবেদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে লুট হওয়া টাকার পরিমাণ এক কোটি ৮৩ লাখ ২১ হাজার ৫০০ লেখা হয়েছে বলে জানান ওসি মোতালেব।
বুথের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আগের দিন পুলিশ প্রথমে লুট হওয়া টাকার পরিমাণ এক কোটি দুই লাখ টাকা বললেও পরে জানানো হয়, টাকার পরিমাণ এক কোটি ৯৪ লাখ ৯৭ হাজার। আর এজাহারে দেখানো হয়েছে অন্য একটি অংক।
ওসি বলেন, “ওই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী ও দুই কর্মকর্তা টাকা লুটের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি।”
মানিপ্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকার মিরপুরে তাদের প্রধান কার্যালয় থেকে ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বিভিন্ন বুথে দেওয়ার জন্য একটি মাইক্রোবাসে করে বের হন কর্মীরা।
মাইক্রোবাসে ছিলেন পাঁচজন- চালক শাজাহান মিয়া, নিরাপত্তা কর্মী এবারত ফকির ও ওয়াদুত মোল্লা এবং গানম্যান জিয়াউর রহমান ও শেখ খেলাফত হোসেন।
তারা রাত পৌনে ১১টা থেকে আশুলিয়া, নরসিংহপুর, জামগড়া ও কোনাবাড়ির কয়েকটি বুথে টাকা লোড ও অফলোড করেন।
রাত আড়াইটার দিকে কালিয়াকৈরের হরিণহাটি এলাকায় এপেক্স ফুটওয়ারের গেইটের পাশে ডাচ বাংলার ফার্স্ট ট্র্যাক বুথে যায় মানিপ্ল্যান্টের এই দলটি। বুথের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মী এজাব উদ্দিন ও লোকমান হোসেনের উপস্থিতিতে তারা মাইক্রোবাস থেকে দুটি ট্রাংক নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।
এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় ১২-১৩ জন লোক নীল রংয়ের একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে ওই বুথে আসে এবং রড, চাপাতিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিরাপত্তা কর্মী, গানম্যান ও মাইক্রোবাস চালককে মারধর করে। এক পর্যায়ে ৪-৫ জন বুথে প্রবেশ করে টাকার ট্রাংক লুটে নেয় এবং পরে ডাকাত দলটি চন্দ্রার দিকে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ডাকাতির ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় খালি অবস্থায় টাকার ট্রাংক দুটি পাওয়া যায়।
বুথের নিরাপত্তাকর্মী, মানিপ্ল্যান্টের কর্মীসহ মোট নয়জনকে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই এম এ মজিব বলেন, “আমরা এটিএম বুথের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ডাকাতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।”
মানিপ্ল্যান্টের সিইও আফজালুল আবেদিন সাংবাদিকদের জানান, তার প্রতিষ্ঠান ঢাকা, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকার ৪৫০টি এটিএম বুথ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।প্রতিদিন সকালে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে চাহিদামতো টাকা এনে তারা এই বুথগুলিতে লোড করেন। আর বুথে জমা হওয়া টাকা আনলোড করে প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছে দেন।


