এবারের আগে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সাফল্য যতটুকু, ততটুকুই আবার কান্নার গল্প। চার বছর আগে মিরপুরে সাকিব-মুশফিকদের কান্নার ঢেউ আছড়ে পড়েছিল সারাদেশে, সব বাংলাদেশির অন্তরে। ওয়ানডের বদলে ফরম্যাট এবার টি২০, প্রতিপক্ষও পাকিস্তান নয়, ভারত। কিন্তু মঞ্চ সেই ফাইনালই। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এবারের পর্বে বাংলাদেশ কান্নার বদলে হাসির গল্প লিখতে পারবে তো? মাশরাফি-সাকিব-মুশফিকরা পারবেন তো উৎসবের রেণু ছড়িয়ে দিতে? যাদের পথ ধরে মাশরাফিরা বাইশগজি ময়দানে দেশের পতাকা ওড়াচ্ছেন, সেই পূর্বসূরিরা কী ভাবছেন এ নিয়ে, কতটুকু প্রত্যাশা আর আস্থা রাখছেন উত্তরসূরিদের ওপর?
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ একমাত্র যে বৈশ্বিক শিরোপা জিতেছে, সেই আইসিসি ট্রফিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া আকরাম খান দৃঢ় বিশ্বাসই রাখছেন মাশরাফিদের ওপর, ‘বাংলাদেশ টি২০-তে আগে ভালো খেলত না। এবার আমরা টানা দুই ম্যাচে হারিয়েছি শ্রীলংকা আর পাকিস্তানকে। এটা সম্ভব হয়েছে মূল একটা দল হিসেবে খেলার কারণে। ওই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আমাদের পক্ষে ফাইনালেও জয় সম্ভব। এশিয়া কাপের শিরোপার আশা বাংলাদেশ করতেই পারে।’
টানা দুই ম্যাচে শ্রীলংকা পাকিস্তানকে হারালেও মাশরাফিরা অবশ্য প্রথম ম্যাচেই ৪৫ রানে হেরে গিয়েছিলেন ভারতের কাছে। সেই ভারতই যেহেতু ফাইনালের প্রতিপক্ষ, তবে কি বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে? প্রশ্নটা শুনে একেবারে উড়িয়ে দিলেন না আকরাম, তবে বাংলাদেশ কেন জিতবে তার কিছু ফ্যাক্টর তুলে ধরলেন উত্তর দিতে গিয়ে, ‘আমরা কিন্তু নিজেদের কন্ডিশনেই খেলতে নামছি। প্রথম ম্যাচে হেরে গিয়েছিলাম ঠিকই, ওইদিন ভারতও কিন্তু চাপে পড়ে গিয়েছিল। আর গত বছরের জুনে ওদের আমরা ওয়ানডে সিরিজে হারিয়েছি। ওটা একটা মানসিক জোর দেবে। আরেকটা জায়গায় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে, সেটা হচ্ছে মাশরাফির অধিনায়কত্ব। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এবার ফাইনালের হাসি হাসতেই পারে।’
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা আকরামের মতো বাংলাদেশের জয় নিয়ে আশাবাদী নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও। এই সুমনের নেতৃত্বেই ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সাবেক এ অধিনায়ক শক্তি-সামর্থ্যে এগিয়ে রাখছেন মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকেই, ‘টি২০-তে ভারত কঠিন প্রতিপক্ষ। নিঃসন্দেহে ওরা ফাইনালের ফেভারিট। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং মিলিয়ে বেশ সমতা আছে। বাংলাদেশ র্যাংকিংয়ের দশ নম্বর দল, আর ভারত এক নম্বরে- এ কথাটা মনে রাখা উচিত।’ এতসব কথার পরও সুমন বাংলাদেশের ওপর বাজি রাখছেন খেলাটা টি২০ বলেই, ‘শেষ তিনটা ম্যাচে বাংলাদেশ যে ধরনের ক্রিকেট খেলেছে, যে উদ্দীপনা এখন দলের মধ্যে আছে, সে অনুসারে অবশ্যই বাংলাদেশের ভালো সম্ভাবনা আছে। টি২০ হলো দুই-তিন ওভারে মোড় ঘুরে যেতে পারে এমন খেলা। এ কারণে বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখা ঠিক হবে না।’


