বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

দুই মন্ত্রীকে আপিল বিভাগে তলব

888-jugantor_6288বিচার বিভাগ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় এর  ব্যাখ্যা চেয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হককে তলব করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

১৫ মার্চ সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে নয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, সম্প্রতি আপিল বিভাগ নিয়ে দুই মন্ত্রী অশুভ ও আদালত অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। এটি বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।

তাই ১৫ মার্চ সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানাতে বলা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হককে ভর্ৎসনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তাদের এ বক্তব্য সরকারের নয়। বরং এ দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে সরকার বিব্রত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দুই মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, কোন লোভে পড়ে আপনারা এমন বক্তব্য দেন? ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। মীর কাসেম আলীর রায় ঘোষণার আগে শনিবার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভায় সরকারের ওই দুই মন্ত্রী প্রধান বিচারপতিকে জড়িয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। ওই অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রধান বিচারপতির একটি বক্তব্য উল্লেখ করে বলেছেন, প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে নতুন বেঞ্চ গঠন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানি আবার করা উচিত। আর মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতি যদি উন্মুক্ত আদালতে এমন কথা বলে থাকেন তাহলে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তার এটা বোঝা উচিত। এটা করে থাকলে এটার প্রতিকার কী- এটা তিনি নিশ্চয় জানেন। হয় তিনি এটা প্রত্যাহার করে নেবেন। আর না হয় প্রধান বিচারপতির আসনে থাকার সুযোগ কতটুকু আছে, তা তার ওপরই রাখতে চাই।’

গত ৫ মার্চ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের এই দুই মন্ত্রী প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেন। এর মধ্যে খাদ্যমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর মামলার বিচারকের আসন থেকে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এনিয়ে  মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী প্রধান বিচারপতির স্বপদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আরও পড়ুন