বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

অর্থ হ্যাকিংয়ে নজরদারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কর্মকর্তা

136873_1ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা হ্যাকড হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের ব্যাক অফিসের (সিলিং) আট কর্মকর্তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র এসব তথ্য জানায়।

সূত্র বলেছে, বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে র্যারব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়েছে।

এদিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকারদের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দায় অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, তাদের ব্যাংকের কোনো অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। তাদের ব্যাংক থেকে কোনো অর্থও খোয়া যায়নি।

এ অবস্থায় অর্থ ফেরত আনতে প্রয়োজনে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ নিয়ে ব্যাক অফিসে (সিলিং) অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন আট কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে কয়েকজনের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে বলে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই খবরের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেছেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এটুকু জানি যে অর্থ চুরি যাওয়ার বিষয়টি তদন্তাধীন এবং টাকা উদ্ধার করা গেলে সেটা আমরা সবাইকে জানিয়ে দেব। তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে এর বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই।’

এদিকে নজিরবিহীন এ ঘটনার পর ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকায়ও অনেকে নাখোশ। বিদেশি গণমাধ্যম ৮০০ কোটি টাকা হ্যাকড হওয়ার খবর দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ব্যাংকের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রীও।

অবশ্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশের পর গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাকড হওয়ার কথা স্বীকার কর। তবে টাকার অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। এক দিন পরই গতকাল ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে কোনো ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ঘটনা তদন্তের জন্য দেশের বাইরে থেকে অনেক বড় বড় এক্সপার্ট এসেছেন। তারা বলছেন, যে ধরনের প্রযুক্তি দিয়ে এই হ্যাকিং হয়েছে তা অনেক উন্নতমানের। এই প্রযুক্তি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়াও রিজার্ভের অর্থ হ্যাক করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, আন্তব্যাংক লেনদেন প্রযুক্তি ‘রিয়েল টাইম গ্রস সেটলমেন্ট’ (আরটিজিএস) বাস্তবায়নে সুইডেনভিত্তিক কম্পানি সিএমএ স্মল সিসটেম এবির সঙ্গে ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড বাংলাদেশে সিএমএর স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে, যা আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনকারী সুইফটের সঙ্গে যুক্ত।

সুইডেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডাটাবেইসের অনেক তথ্যের বিষয়ে অবহিত রয়েছে। হ্যাক হওয়ার ঘটনায় বিদেশি এই প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন