বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আমেরিকার শর্ত ‘কেয়ামত’ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না

1438866181_3318মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও বাংলাদেশি পণ্যের জেএসপি সুবিধা ফিরিয়ে না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, আমার মনে হয়- রোজ ‘কেয়ামত’ পর্যন্ত চেষ্টা করলেও বাংলাদেশ তাদের শর্ত ‘পূর্ণ করতে পারবে না’। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জেএসপি ফিরে পেতে যেসব করণীয় ছিল তার সবই  করা হয়েছে। পরিদর্শনের পর কিছু কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, সেগুলো আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। তাতে আমাদের ৫০ হাজার শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু যারা ক্রেতা তারা এখন সন্তোষ প্রকাশ করেছে, আমাদের কোনো কারখানাই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। রানা প্লাজা ধসের পর  প্রায় তিন বছর চলে গেছে। এর মধ্যে কোনো দুর্ঘটনা হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের কারখানাগুলো এখন রি-মডেল হচ্ছে, ফায়ার সেফটি, ইলেকট্রিক্যাল সেফটি, স্ট্রাকচারাল ইন্টিগ্রিটি অব বিল্ডিং- সব কিছু আধুনিক হচ্ছে। আমাদের এখানে যারা ব্যবসা করে, তারা প্রচুর বিনিয়োগ করে। আমরা যদি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে পরবর্তী ধাপে উন্নীতও হই, তাহলে আমাদের স্ট্যাটাস কী হবে, সেটা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনই আমাদের ফেভারে চিন্তা করতে শুরু করেছে।

সব শর্ত পূরণ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জেএসপি সুবিধা ফিরে পাচ্ছে না, এর জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, কেন আমরা পাচ্ছি না, তার উত্তর বার্নিকাট (যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত) দিয়েছেন, তিনি তার উত্তরে তা বলেছেন। যে কথাটা মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। আরও উন্নতি দরকার। সেই উন্নতিটা কী? আমাদের ইপিজেডে আমরা যে ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন করেছি, সেখানে সব কিছুই আছে। ১০-১৫ হাজার টাকার কমে কেউ বেতন পায় না। শ্রমিকদের তরফ থেকে কোনো অভিযোগ নাই। আমার মনে হয়, রোজ কেয়ামত পর্যন্ত চেষ্টা করলেও তাদের শর্ত আমরা পূর্ণ করতে পারবো না। এটা আমার ধারণা জন্মেছে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের আর কিছু করণীয় নাই, যা যা করার দরকার ছিল করে দিয়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং তথাকথিত ট্রেড ইউনিয়ন, কিছু শ্রমিক নেতা, যারা কোনো কারখানায় কাজ করে না, কোনো কারখানার শ্রমিক না, এই শ্রমিক নামটা তাদের ব্যবসা। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন দূতাবাসের যোগাযোগ আছে। তারা কার্যত দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

তবে এসবে তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি ঠেকানো যাবে না মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমেরিকাসহ ১০-১২টা দেশ টিপিপি করছে, তাতে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। আমাদের প্রতিযোগিতা বাড়বে। তৈরি পোশাক খাতকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবো। ২০৫০ সালের মধ্য আমরা যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির টার্গেট করেছি, সেখানে আমরা পৌঁছাবো। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা সামান্য জেএসপি পেতাম ২৩-২৫ মিলিয়ন ডলার, যেখানে রপ্তানি হয় ৬ বিলিয়ন ডলার। তৈরি পোশাকে আমরা জেএসপি সুবিধা পেতাম না। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সহযোগিতায় আমরা এ পর্যন্ত এসেছি।

আরও পড়ুন