নাশকতার তিন মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। রোববার দুপুর ১২টার দিকে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন তিনি।
শুনানি শেষে একটিতে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। তিনটি মামলায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় দুপুর ১টার দিকে তাকে কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ। অপর ৫টি মামলার নথি দেখার পর আদালত আদেশ দেবেন বলে আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে এক বছরের বেশি সময় ধরে আত্মগোপনে থাকা মেয়র বুলবুলের আত্মসমর্পণের খবরে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আদালত চত্তরে জড়ো হন। এ সময় আদালত চত্তরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জামিন আবেদন নামঞ্জুরের পর মেয়র বুলবুলকে কারাগারে নেয়ার জন্য পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত চত্তরে বিক্ষোভ করেন।
বুলবুলের আইনজীবী আলী আশরাফ মাসুম জানান, মেয়র বুলবুলের বিরুদ্ধে নাশকতা, সহিংসতা ও পুলিশ হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় মোট নয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ সরকারসহ নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায়ই ৪টি মামলা রয়েছে। এ সব মামলায় আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল করেছে পুলিশ।
২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে রাসিকের মেয়র নির্বাচিত হন বুলবুল। ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আন্দোলন শুরুর পরই একের পর এক নাশকতা ও মামলা দায়ের শুরু হয়। এরপরই আত্মগোপনে চলে যান মেয়র বুলবুল। আত্মগোপনে থাকাবস্থায়ই তিনি রাসিকের ফাইলওয়ার্ক (স্বাক্ষর) করছিলেন। গত বছর ৭ মে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়।


