টি২০ বিশ্বকাপে ধর্মশালায় প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচে তার প্রথম রান করতেই লেগে গেল ৫ বল। প্রথম বাউন্ডারি মারতে লাগল ৮ বল। ১৫ বলে হলো ১৬ রান। শুরুটা এমন ধীর-লয়ে হলো, ব্যাটসম্যানের নাম তামিম ইকবাল বিশ্বাস করা কঠিন ছিল! উদ্বোধনী সঙ্গী সৌম্য সরকারকেও যেন তাঁর মতো লাগছে না। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের রান হলো মোটে ২৯।
বাংলাদেশের এমন মন্থর সূচনায় বড় স্কোরের আশা করা কঠিনই ছিল। কিন্তু অনুমান মিথ্যে করার জন্য একজন ছিলেন উইকেটে—তামিম। ধর্মশালায় বৃষ্টি থেমেছিল আগেই। সেই বৃষ্টি আরেকবার নামালেন তামিম। এই বৃষ্টি চার-ছক্কার! এই বৃষ্টি এমনই, রীতিমতো রানের প্লাবন বইয়ে দিলেন বাংলাদেশ দলের এই বাঁ হাতি ওপেনার। করলেন টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি। তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ করল ২ উইকেটে ১৮০। কঠিন লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ১ রানেই এক উইকেট হারিয়েছে ওমান।
শুরুতে বল যেভাবে টার্ন করছিল, নিচু হয়ে আসছিল তাতে বড় স্কোর কঠিনই ছিল। সৌম্যকে আরও অপ্রতিভ লাগছিল সাম্প্রতিক ফর্মের কারণে। ২২ বলে ১২ রানে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন বাঁহাতি ওপেনার। যদিও উদ্বোধনী জুটিতে এসেছে ৪২ রান। এর মধ্যে ২৯ তামিমের।
সৌম্য ফিরতেই যেন আসল বাংলাদেশ বেরিয়ে এল। তামিমও খোলস থেকে বেরিয়ে এলেন সপ্তম ওভারে। প্রথম ১৫ বলে ১৬ রান করলেও পরের ৪৮ বলে করলেন ৮৭! ৬৩ বলে ১০৩ রানের অসাধারণ ইনিংসটা সাজালেন ১০ চার আর পাঁচ ছয়ে। ছক্কাগুলোর এমন জোর, তামিম যেন নেমেছিলেন স্টেডিয়ামের বাইরে বল পাঠানোর ব্রতে!
৬.৩ ওভারে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে প্রথম যে ছক্কাটা মারলেন সেটি ছিল ৯১ মিটার দূরত্বের। এতেই বোধ হয় মনে ভরল না তামিমের। ১৫.২ ওভারে খাওয়ার আলীকে যে ছক্কা মারলেন সেটি ৯৪ মিটারের। অবশ্য দূরত্বের হিসেবে তামিম অল্পের জন্য পারলেন না দ্বিতীয় উইকেট জুটির সঙ্গী সাব্বির রহমানের সঙ্গে। খাওয়ারকে সাব্বির আছড়ে ফেললেন ৯৬ মিটার দূরে।
চার-ছক্কায় মেতে ওঠা তামিম-সাব্বিরের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এল ৫৫ বলে ৯৭ রান। খাওয়ারের বলে হাফ সেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে থেকে অদ্ভুত বোল্ড হলেন সাব্বির। পায়ের পেছনের দিক দিয়ে বল গিয়ে বোল্ড। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেটে ৪১ রান যোগ করে স্কোরটা ধর্মশালার পাহাড়ের মতোই বড় করে ফেরেন তামিম। ততক্ষণে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দুটি অনন্য কীর্তি যোগ হয়েছে তাঁর নামের পাশে। ১০০০ রান, সঙ্গে সেঞ্চুরি। সাকিবও একদম প্রান্তে গিয়েছিলেন হাজারের মাইলফলক ছোঁয়ার। ৯৯৬ রানে আটকে আছেন আপাতত।
সেঞ্চুরির পর যথারীতি তামিমের উদযাপনটা হলো মুগ্ধতা ছড়ানো। তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি, সেটি তিনিই মনে করিয়ে দিলেন। তাসকিন প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই উইকেট তুলে নিয়ে যেন বোলারদের পক্ষ থেকেও বার্তাটা দিয়ে রাখলেন।


