বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের রিজার্ভের টাকা লোপাটের ঘটনা চাপা দিতে চেয়েছিল সরকার: বিএনপি

BNP-Rizviযুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভের টাকা লোপাটের ঘটনাটি সরকার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অর্থ চুরির ঘটনাটি ঘটার এক মাস পর কেন এটি প্রকাশ হল? এতে সুস্পষ্ট বুঝা যায়, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপ্রয়াস চলছিল।

“আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে অবিলম্বে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধার ও এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।”

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, “বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বল থাকার এবং এই ঘটনার সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।

“ওই দিন সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য-উপাত্ত কোখায় গেল? সর্বক্ষেত্রে অপশাসন ও প্রতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার অভাব, যার পরিণতি হচ্ছে বর্তমান আর্থিক খাতে বিরামহীন হরিলুট।”

বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ লোপাটের ঘটনা নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অজ্ঞতার সমালোচনা করেন বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব।

“এই অর্থমন্ত্রী হল-মার্ক কেলেঙ্কারি চার হাজার কোটি টাকা বড় অংকের অর্থ নয় বলেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি যাওয়ায় বিষয়ে কিছুই জানি না।

“যে সরকার চোরকে নিরাপদ রাখতে বেশি ব্যস্ত থাকে, তারা তো কিছুই জানবে না।”

গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপিন্সের একটি ব্যাংকে সরিয়ে ফেলা হয়। ফিলিপিন্সের ডেইলি ইনকোয়ারার ২৯ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বিষয়টি দুটি দেশেই আলোচনায় আসে।

ব্যাংকের টাকা চুরির যেসব ঘটনা এ পর্যন্ত বিশ্বে ঘটেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ঘটনাকে ‘অন্যতম বড়’ বলা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুরুতেই অর্থ চুরির বিষয়টি টের পেলেও কর্মকর্তারা তা গোপন করে যাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে বিষয়টি জানতে হয় প্রায় এক মাস পর, পত্রিকা পড়ে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেভাবে বিষয়টি সামাল দিতে চেয়েছে তাকে ‘অযোগ্যতা’ হিসেবে দেখছেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। অর্থ লোপাটের বিষয়টি চেপে রাখার ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুহিত বলেছেন, এই ‘স্পর্ধার’ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে ‘অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

বিএনপির পক্ষ থেকে গভর্নরের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীকেও এ ঘটনার জন্য দায়ী করে দুজনের পদত্যাগ চাওয়া হয়েছে।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীরও পদত্যাগ দাবি করেন রিজভী।

“শুধুমাত্র অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগেই বাংলাদেশের পরিত্রাণ মিলবে না। এদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মাধ্যমেই দেশ, মানুষ ও গণতন্ত্রের মুক্তি নিশ্চিত হবে।”

এই প্রেক্ষাপটে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, বর্তমান সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে, যা সঞ্চয় ও ভোগ কাঠামোতে প্রভাব ফেলবে

“এই অবস্থায় অর্থ পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। সেই প্রবণতা এখন ভয়াবহ রূপধারণ করেছে।”

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলা ২ নং চর বাদাম ইউনিয়ন, ভোলার মনপুরা উপজেলা ৩ নং সাকুচিয়া ইউনিয়ন, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সবিকল ইউনিয়ন, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাট ইউনিয়ন, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার নাটেশ্বরী ইউনিয়নে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলা, ভাংচুর ও প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন রিজভী।

“ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের মনোনীত প্রার্থীদের প্রচার করতে দিচ্ছে না। এ বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে জানালেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না প্রার্থীরা।”

গত ৬ মার্চ রাজধানীর খিলক্ষেতের বাসা থেকে বনানী থানা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান মিশুকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন,  “এখনো তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এই ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আমরা অবিলম্বে তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম, আবদুস সালাম আজাদ, এম এ মালেক, আবদুল লতিফ জনি ও তাইফুল ইসলাম টিপু উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন