বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মুহিতের ডাকে সাড়া না দিয়ে বাসায় ফিরলেন গভর্নর আতিউর

Atiur-bbদেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। সোমবার বিকেলেই তাকে জরুরি তলব করা হয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করার জন্যে। কিন্তু মন্ত্রীর ডাকে সাড়া দেননি গভর্নর। বিমানবন্দর থেকে গভর্নর তার বাসভবনে চলে যান। তার জন্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত অপেক্ষা করছিলেন। তবে গভর্নর না আসায় সন্ধ্যা ৬ টায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়ে দেয়া হয় আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় সাংবাদিক সম্মেলন করবেন তিনি। এসময় অর্থমন্ত্রীর কক্ষে অর্থসচিব মাহবুবুর রহমান, ব্যাংকিং সচিব এম আসলাম আলম, ব্যাংকিং সচিব গোকুল চাঁদ দাস উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ভারত থেকে দেশে ফেরার পর তাকে সোমবার বিকেলেই জরুরি ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। বিষয়টি গভর্নরের দপ্তরকে জানিয়ে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর, একাত্তর ও এটিএননিউজ বিষয়টি তাদের নিউজ স্ক্রলে প্রচার করে।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার কিছু আগে গভর্নর দিল্লি থেকে ঢাকায় ফেরেন। এদিকে সচিবালয় থেকে আমাদের সিনিয়র রিপোর্টার নজমুল হক সরকার জানান, অর্থমন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে গভর্নরের বাসভবনে বার্তা পাঠানো হয়েছে তাকে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্যে। এটিএন নিউজ স্ক্রলে বলছে গভর্নর ইতিমধ্যে সচিবালয়ে রওনা দিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গভর্নর সচিবালয়ে যাননি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ লোপাট হওয়ায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থ মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠিকভাবে কিছু জানায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ জন্য ব্যাখ্যা চাইতে গভর্নরকে তলব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক এএফএম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গভর্নর ড. আতিউর রহমান চারদিনের ভারত সফর শেষে সোমবার বিকেলে দেশে ফিরছেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে। তাই আগামীকালের বোর্ড মিটিংয়ে তার উপস্থিতি বেশি জরুরি মনে করছে মন্ত্রণালয়।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮’শ কোটি টাকা চুরি হয়ে যাওয়ার পর রোববার সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, পুরো এক মাস তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। গত ৪ ফেব্রæয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮’শ কোটি টাকা হ্যাকড হবার ঘটনা ঘটে। কিন্তু বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাকে না জানানোর বিষয়টি ‘ধৃষ্টতা’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন অর্থমন্ত্রী । তিনি রোববার সাংবাদিকদের জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় ব্যাংকিং খাতে ‘পরিবর্তন’ আসছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, তিনি এখন গভর্নর আতিউর রহমানের জন্য অপেক্ষা করছেন।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ডেফিনেটলি দেয়ার উড বি চেইঞ্জেস। এতো বড় একটা সিরিয়াস ব্যাপার। আই টেক ইট ভেরি সিরিয়াসলি।”

ফিলিপিন্সের ডেইলি ইনকোয়ারারে ২৯ ফেব্রæয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার লোপাটের খবর এলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে।

তদন্তে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে হ্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই অর্থ ফিলিপিন্সের একটি ব্যাংকে সরিয়ে ফেলা হয়।

শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে আরও ২০ মিলিয়ন ডলার সরানো হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুরুতেই বিষয়টি টের পেলেও কর্মকর্তারা তা গোপন করে যাওয়ায় অর্থমন্ত্রী মুহিতকে এক মাস পর তা পত্রিকা পড়ে জানতে হয়।
অর্থ লোপাটের বিষয়টি চেপে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেভাবে তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে তাকে ‘অযোগ্যতা’ আখ্যায়িত করে ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী রোববার বলেন, এই ‘স্পর্ধার’ জন্য ‘অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেবেন বলেও জানিয়েছিলেন মুহিত।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী অর্থ লোপাটের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন জানিয়ে বৈঠকে উপস্থিত একজন মন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আলাপের সময় অর্থমন্ত্রীকে বেশ ক্ষুব্ধ দেখাচ্ছিল।”

প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কি-না জানতে চাইলে মুহিত নিজের মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আই অ্যাম ওয়েটিং ফর আতিউর। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব বলেছিলাম, আলোচনা আমার হয়েছে।
এখন বিবৃতি দেবেন কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আর কিছু স্টেটমেন্ট নাই। গভর্নর ফিরে আসলে আই উইলৃ স্টেটমেন্ট। সেটা আজও হতে পারে, কালও হতে পারে। কারণ সে কখন আসবে-তার কোনো ঠিক নাই।”
পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, “ যে মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বিরাট বিরাট প্রকল্প করছেন, রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণ, জিডিপি ৭ শতাংশ হবে বলে মনে করছিৃ সেই মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঘটনা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
“এটা আমরা কল্পনা করি নাই, আমরা চিন্তা করি নাই, এ ব্যাপারে অবশ্যই বাস্তব পদ¶েপ গ্রহণ করব। ব্যাপারটা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী- আমরা সকলেই গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি।”

আরও পড়ুন