রিয়াজুল বাশার।
শুধু যশ আর খ্যাতির জন্য দ্বিগবিদিক ছোটার পরিণতি কেমন হতে পারে তা আমাদের আবারো মনে করিয়ে দিলেন ড. আতিউর রহমান। রিজার্ভ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি কমানো বা অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে কার ভূমিকা কতটুকু সে উত্তর আমাদের অজানা নয়। তবে প্রচারের নেশায় এবং আমিত্ব যখন চরমে উঠে তখন নিজেকেই সবকিছুর কেন্দ্রে এনে ফেলে বেশিরভাগ মানুষ। আতিউর রহমান এক্ষেত্রে প্রকৃষ্ট উদাহরণ এবং আজকের সংবাদ সম্মেলনের প্রায় পুরোটাই ছিল আমিত্বের প্রচার।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, গরীবের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার আগে (ওই সিদ্ধান্ত ছিল সরকারের, গভর্নরের নয়) আতিউর রহমানের ৩০ বছরের পেশাগত জীবনে গরীররা তার কাছ থেকে কি পেয়েছেন? কি পেয়েছেন তার এনজিও থেকে? শিক্ষকতা করেছেন বেশ কিছুদিন, কেন তার শিক্ষাদান পদ্ধতি বা বিষয় নিয়ে কোনও আলোচনা বাজারে চালু হয়নি?
বাঙালির আত্মবিশ্বাসের অভাব আছে। একারনেই একজন গভর্নরের ছোটবেলায় রাখাল থাকাটা তারা অলৌকিকতায় নিয়ে গেছেন। যদিও আতিউরের ছোটবেলার সময় বাংলাদেশের সিংহভাগ শিশুই রাখাল অথবা রাখালের মত ছিল। সেই শিশুদের অনেকেই কর্ম, কর্তব্য, দায়িত্বে আতিউরের চেয়ে কম নয়।
খ্যাতি আর যশের নেশা কাউকে পেয়ে বসলে তিনি উল্কাগতিতে ছুটতে শুরু করেন, বেশিরভাগ সময়েই কর্তব্যবোধ মনে থাকে না। আতিউর রহমানের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। মানুষ তার কাছ থেকে আরও ধীরস্থিরভাবে দায়িত্ব পালনের আশা করেছিল।
প্রচারের জন্য দ্বিগবিদিক না ছুটে মিল্টনের এ কথাটা তার মনে রাখা উচিৎ ছিল, “They also serve who only stand and wait”
রিয়াজুল বাশার: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক


