যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামকে নিয়ে লেখা উপ-সম্পাদকীয়র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। গত ৩ মার্চ মাহফুজ আনামের মেয়ে তাহমিনা আনাম লিখিত ‘মাই ফাদার, দ্য এডিটর, আন্ডার ফায়ার’ শীর্ষক একটি কলাম নিউ ইয়র্ক টাইমসে ছাপা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ মার্চ একই পত্রিকায় ওয়াশিংটনে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জিয়াউদ্দিনের পাঠানো প্রতিবাদও ছাপানো হয়েছে। ‘দ্য গোল্ডেন এজ’ খ্যাত লেখিকা তাহমিনা আনাম, তাঁর লেখায় বাংলাদেশের সরকার তার বাবাসহ গণমাধ্যমের উপর চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ তোলেন।
এক প্রসঙ্গে তাহমিনা লিখেন, বাংলাদেশে বছরখানেক আগে বইমেলা ফেরত (যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী) একজন ব্লগার ও লেখককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তখন আমরা উগ্রবাদীদের আচরণে উদ্বিগ্ন ছিলাম। কিন্তু, এখন সরকারই রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত দমনে কাজ করছে। ভীতু হয়ে স্বাধীন গণমাধ্যমকে চেপে ধরছে।
তাহমিনা আনামের এ লেখার প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন লেখেন, মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ‘একশন’ নিচ্ছে না। এমনকি স্বাধীন গণমাধ্যমের উপরে সরকারের কোনো চাপ নেই। মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর বাংলাদেশ সরকার হস্তক্ষেপ করছে না। মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে হওয়া সকল মামলা ব্যক্তিগতভাবে করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবাদপত্রে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ওই সময়ে মাহফুজ আনাম ‘স্বাভাবিক গণমাধ্যম অনুশীলন’ করেননি। সে সময়ে অনেক গণমাধ্যম মিথ্যা খবর ছাপতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারের বিশেষ সংস্থার দেওয়া অসমর্থিত খবর প্রকাশ করেছিল বিভিন্ন গণমাধ্যম। সম্প্রতি ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম সেইসব খবর পরিবেশন করা উচিত হয়নি বলে একটি টিভি টকশোতে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় মাহফুজ আনামের কারণে তাঁর মা’কে ১১ মাস জেল খাটতে হয়েছে বলে দাবি করে মাহফুজ আনামের গ্রেফতার দাবি করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জয়ের এমন মন্তব্যের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ৮০টির উপরে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় জামিন পেয়েছেন এ সম্পাদক।
এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নিজেও মাহফুজ আনামকে তিরষ্কার করে কথা বলেছেন। মাহফুজ আনামের লজ্জা থাকলে পদত্যাগ করতেন বলেও মন্তব্য করেছেন।


