বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

পছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে মরিয়া আ’লীগের এমপিরা

UP-Election20160312171621নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে বরিশাল-৪ আসনের সরকারদলীয় এমপি পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে জেলা প্রশাসক দফতরে। বরগুনার এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তা লিখিতভাবে জানাতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পিরোজপুরে এমপি একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের এক চেয়ারম্যান প্রার্থী। আগৈলঝাড়ায় প্রভাবশালী এক নেতার কারণে প্রচার-প্রচারণায় নামা যাচ্ছে না বলে ইসিতে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লাবন্য আকতার। পাথরঘাটার কালমেঘায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাংচুর ও কর্মীদের মারধরের ঘটনায় মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর মেয়র আনোয়ার আকনের বিরুদ্ধে।

দলীয় কিংবা বিদ্রোহী নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের জেতাতে ক্ষমতাসীন দলের এমপি ও প্রভাবশালী নেতারা মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশকে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমপি ও দলীয় নেতারা।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের ভাষানচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুন বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চুন্নুকে মনোনয়ন দিয়েছে দল। কিন্তু আমাদের এমপি পঙ্কজ দেবনাথ মাঠে নেমেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী মজিবর রহমানকে নিয়ে। আর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, আমার লোকজনকে মারধর ও নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে এমপির অনুসারীরা। এমনকি পুলিশকে মাঠে নামানো হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। কাজিরহাট থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেনও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সোমবার বিনা কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আক্কাসকে। নৌকার পক্ষের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে পুলিশ। এছাড়া হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুর রহিম, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল বাশার বেলালসহ অনেককে। এসব ঘটনায় মামলা করতে গেলে নেয়নি পুলিশ। এমপি পঙ্কজ দেবনাথ সরাসরি এসব করাচ্ছেন বলে নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন।

ভাষানচরসহ উপজেলার অন্তত ৫টি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে। পুলিশ-প্রশাসনকেও ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পঙ্কজ দেবনাথ এমপি বলেন, দল মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আমি নৌকার সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব। কাজীরহাট থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি আমরা। আইনশৃংখলা রক্ষা প্রশ্নে যাদেরকে হুমকি মনে হচ্ছে কেবল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কে কার লোক বা সমর্থক তা দেখা হচ্ছে না।

বরগুনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের ঘটনায় মামলা করার জন্য বরগুনার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, দিনের বেলা বরগুনা জেলা শহরে কাটান এমপি রিমন। গভীর রাতে আসেন নির্বাচনী এলাকায়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রভাবিত করেন নির্বাচন। পাথরঘাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন আকনের বিরুদ্ধেও উঠেছে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করার অভিযোগ। কালমেঘা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম নাসির অভিযোগ করেন, এলাকায় এসে সরাসরি বিদ্রোহী প্রার্থী এবং দল থেকে বহিষ্কৃত শহীদ আকনের পক্ষে কাজ করছেন আনোয়ার আকন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি রিমন বলেন, হয়তো কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। তাই এমন নির্দেশ দিয়েছে ইসি। আমি আচরণবিধি লংঘন করিনি। তাছাড়া দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার প্রশ্নই উঠে না।

দলীয় প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় বাধা ও হামলা-মারধরের অভিযোগে পিরোজপুর সদর আসনের এমপি একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন স্বরূপকাঠি উপজেলার ১০নং সারেংকাঠি ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী নজরুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্রে এমপি আউয়ালের পাঠানো তালিকা থেকে ১১ জনের নাম বাদ দিয়ে যোগ্যদের প্রার্থী করা হয়। এরপর থেকেই নিজের লোকজনকে বিদ্রোহী প্রার্থী বানিয়ে তাদের পক্ষে কাজ করছেন আউয়াল।

এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে এমপি আউয়াল বলেন, নৌকার বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যারা এসব বলছে তারা সত্য বলছে না।

এসব বিষয়ে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, সব অভিযোগই যে সত্য এমন নয়। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে বাড়াবাড়ির কিছু ঘটনা ঘটছে। তবে আমি মনে করি, দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস বোধহয় কেউ করবেন না। যদিওবা করেন তার শাস্তিও পেতে হবে সাংগঠনিকভাবে।

আরও পড়ুন