টি ২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৫৫ রানের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বুধবার তারা বাংলাদেশকে হারিয়েছে।
এই ম্যাচে টসের আগে পাকিস্তান দলকে উজ্জীবিত করতে অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি সবাইকে ডেকে পবিত্র কোরআন থেকে অংশ বিশেষ পাঠ করে শোনান বলে খবর দিয়েছে কলকাতার জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা।
এতে বলা হয়েছে, খেলার দিন সকালে নাস্তার টেবিলে আফ্রিদি তার টিমকে ডেকে বলে দেন, ‘হার-জিত নিয়ে তোমাদের বক্তৃতা দিতে ডাকিনি। শুধু বলব- আমার পরিচিতি, আমার সম্মান সব ক্রিকেট। তোমরা সেই সম্মানটা রেখ।’
এরপর টস করতে আসার আগে ড্রেসিংরুমে তিনি দলকে তাতানোর জন্য কোরআন থেকে অংশ বিশেষ পড়ে শোনান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে কতটা চাপে ছিলেন, তা ম্যাচ শেষে আফ্রিদি নিজের ফেসবুকে সেলফি পোস্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
সেখানে তিনি লিখছেন, ‘এটা আমার প্রিয় ভক্তদের জন্য, আমার সমর্থকদের জন্য, আমার শুভানুধ্যায়ীদের জন্য। আর তার চেয়েও বেশি, এটা আমার সমালোচকদের জন্য?’
দলের ২০০ রানের ইনিংসে শহিদ আফ্রিদি খেলেন ১৯ বলে সমান চারটি করে চার-ছক্কায় ৪৯ রানের ক্যামিও ইনিংস। বল হাতেও তুলে নেন প্রতিরোধের দেয়াল হতে পারতেন, বাংলাদেশের সেরা ফর্মে থাকা তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের উইকেট।
এই ম্যাচ আফ্রিদিরও কক্ষ পথে ফেরার ম্যাচ ছিল। কারণ ক’দিন আগেই ঢাকায় মাশরাফিদের কাছে তারা হেরে বিদায় নেয়। বল-ব্যাট হাসছিল না তার। অধিনায়কের পদ থেকেও তাকে সরিয়ে দেয়ার জোর গুঞ্জন ওঠে।
কারণ বুধবারের আগে শেষ ১০ ইনিংসে আফ্রিদির মিলিত রান ছিল ৯৭। শেষবার তিরিশের গণ্ডি পেরিয়েছেন ২০১৫-র আগস্টে।
গ্রেটরা বড় মঞ্চকেই বেছে নেন নিজের জাত চেনাতে। আফ্রিদিও তাই করলেন। টি ২০ বিশ্বকাপ আসরের প্রথম ম্যাচে নিজের বুম বুথ খ্যাতিকে সন্মান জানালেন। তাতেই পুড়ে ছাই বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে আফ্রিদি বলেন, ‘আমার পারফরম্যান্স দলের জয়ের ক্ষেত্রে সব সময় বড় ভূমিকা রাখে। এই আসরে ভালো করতে আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম। আমি পাকিস্তানের অধিনায়ক, দলের একজন সিনিয়র খেলোয়াড়। তাই আমি সব সময় মাথা উঁচু করে অধিনায়কত্ব করতে চাই।’


