ভুয়া ইমেইল ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হাতিয়েছে হ্যাকাররা। এ ধরণের ঘটনা নজিরবিহীন নয়। অনেক আগ থেকেই ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশনা পাঠানোতে বিশেষভাবে দক্ষ অপরাধী সংগঠনগুলো। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ট্রেজারদের সতর্ক করা হচ্ছে যাতে বসের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের নির্দেশনা-সংবলিত ইমেইল বিশ্বাস করা না হয়। এমনটি বলা হয়েছে ইকোনমিস্টের একটি নিবন্ধে।
সেখানে বলা হয়েছে, যেকোন মাপকাঠিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হাতানোর ঘটনাটি দুঃসাহসী। তবুও কোন হলিউড ব্লকবাস্টার হওয়ার মতো জটিল বিষয় নয় ঘটনাটি। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তার ছদ্মবেশ ধারণ করতে পেরেছিল হ্যাকাররা। এরপর তারা ফেডারেল রিজার্ভের নিউ ইয়র্ক শাখায় অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনের কয়েকটি ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশনা পাঠায়। কর্তৃপক্ষ যতক্ষণে বুঝতে পেরেছিল, ততক্ষণে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকাররা পাচার করতে সক্ষম হয়। ১৫ই মার্চ ব্যাংকের গভর্ণর আতিউর রহমান দায় নিয়ে পদত্যাগ করেন।
তবে দোষারোপ থামানো যায়নি তাতে। বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের উচিৎ হয়নি ওই অর্থ ছাড় দেয়া। অপরদিকে ফেডারেল রিজার্ভ বলেছে, অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশনাগুলো বৈধ ছিল। তবে ফিলিপাইনি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত জানে না তাদের দেশে পাঠানো ৮.১ কোটি ডলারের অবস্থা কী। বেশিরভাগ অর্থই ক্যাসিনোতে ঢুকে লাপাত্তা হয়ে গেছে। বলা হচ্ছে, ওই ক্যাসিনোগুলো আবার অর্থপাচারবিরোধী আইনের আওতাধীন নয়। খোদ এ বিধানটিও একটি দুঃশ্চিন্তার কারণ। আবার যে ব্যাংক শাখা থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল, সেখানে সিসিটিভি সিস্টেম কাজ করছিল না।
কৌতুক করে নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, এমনকি খোদ অপরাধীদের উচিৎ নিজেদের গায়ে লাথি মারা। কারণ, তাদের একটি নির্দেশনায় যদি বানান ভুল না থাকতো, তাহলে কারও সন্দেহও জাগতো না। আরও কয়েক ডজন অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশনা হয়তো সফলভাবে স¤পন্ন হতে পারতো। সেক্ষেত্রে ১০০ কোটি ডলার পেয়ে যেতে পারতো তারা। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সন্দেহের বশে ২ কোটি ডলার স্থানান্তরের নির্দেশ আটকে দেয়। তারা জানিয়েছে একটি প্রাইভেট অ্যাকাউন্টে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি সন্দেহের উদ্রেক করে তাদের মধ্যে। ডয়েচে ব্যাংক আবিষ্কার করে তাদের কাছে পাঠানো একটি পেমেন্ট রিকোয়েস্ট একটি বানান ছিল ‘ফান্ডেশন’। ফলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডয়েচে ব্যাংক। আর তাতেই ধরা পড়ে সব কিছু।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কাসপার্স্কি ল্যাব গত বছর দাবি করেছিল, এভাবেই বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড বলেছে, তারা ক্রমাগত উন্নত ও নতুন ধরণের সাইবার হুমকির মুখোমুখি হয়েছে। ইকোনমিস্ট নিবন্ধের একেবারে শেষে মন্তব্য করেছে, কোন সাহসী প্রযোজক যদি ঢাকার এ ঘটনাটি নিয়ে সিনেমা বানান, তবে অনেকগুলো সিকুয়েল আশা করুন।


