ইতিহাস বদলাতে ব্যর্থ পাকিস্তান। দুরন্ত জয় ভারতের। বিশ্বকাপে এখনও ভারতের বিরুদ্ধে একটিও জয় আসেনি পাকিস্তানের ঘরে। ইডেনও সেই ইতিহাস ধরে রাখতে সাহায্য করল ধোনি বাহিনীকে। টস জিতে যখন ধোনি ফিল্ডিং নিল তখন অনেকেই হয়তো নাক সিটকেছিলেন। কিন্তু তিনি প্রমাণ করে দিলেন ঠিক ছিলেন তিনি। রোহিত, রায়না, ধবনরা ব্যাট হাতে ক্লিক না করলেও একাই দলকে টেনে নিয়ে গেলেন বিরাট কোহলি। যোগ্য সঙ্গত করে গেলেন যুবরাজ সিংহ। ব্যাট হাতে অবশ্য জয়ের রানটি এল অধিনায়কের ব্যাট থেকেই। ৬ উইকেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে্ আবার স্বমহিমায় ফিরল ভারত।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে ছয়টি ম্যাচ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জয় পায়নি পাকিস্তান। এবার নতুন ইতিহাস লেখার দৃঢ় সংকল্পই ছিল পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মনে। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একটি ম্যাচে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো পাকিস্তানকে। বিরাট কোহলির দারুণ ব্যাটিংয়ে ভর করে ৬ উইকেটের জয় পেল ভারত। ১১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনা হয়েছিল ১৮ ওভারে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে ১১৯ রানের চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল পাকিস্তান। ভারতের দুর্দান্ত ব্যাটিং লাইন আপের জন্য লক্ষ্যটা সহজই বলা চলে। কিন্তু বল হাতে পাকিস্তানের শুরুটা হয়েছিল দারুণভাবে। মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ সামির দারুণ বোলিংয়ে প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যে ২৩ রান জমা করতেই ভারত হারিয়েছিল রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান ও সুরেশ রায়নার উইকেট। কিন্তু এরপর বরাবরের মতো শক্ত হাতে দলের হাল ধরেছেন কোহলি। চতুর্থ উইকেটে যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে ৬১ রানের জুটি গড়ে দলের জয় প্রায় নিশ্চিতই করে ফেলেন ভারতের এই তারকা ব্যাটসম্যান। দ্বাদশ ওভারের শেষ বলে ২৪ রান করা যুবরাজকে আউট করে পাকিস্তান শিবিরে ক্ষণিকের জন্য আশার আলো জাগিয়েছিলেন ওয়াহাব রিয়াজ। কিন্তু দারুণ ব্যাটিং করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান কোহলি। ৩৭ বলে ৫৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলে শেষপর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
পাকিস্তান না পারলেও ভারত অবশ্য গড়েছে নতুন ইতিহাস। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে প্রথমবারের মতো হারিয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতকে হারানোর অপেক্ষাটা আরও দীর্ঘ হলো পাকিস্তানের সমর্থকদের।


