বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

অ্যাপোলো হাসপাতালে ডাকাতের কবলে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক

Captureকর্মস্থলে বুকে ব্যাথা শুরু হলে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শে পাশেই অ্যাপোলে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসার নামে ডাকাতির কবলে পড়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজাম। মঙ্গলবার রাতে ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে তাকে চিকিৎসা শুরুর আগেই ‘টাকা-পয়সা আছে তো’ বলে জানতে চাওয়া হয়। জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক তার ফেসবুক পেজে বুধবার বিকেলে নিজেই এই কথা জানান।

নিষ্ঠাবান ও কর্মঠ সাংবাদিক নঈম নিজামের দৃঢ়হাতে বাংলাদেশ প্রতিদিন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দৈনিকে পরিণত হয়েছে। কয়েকদিন আগে এর ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। ব্যস্ততার কারণে শরীরের যত্নও তিনি নিতে পারেন না।

নঈম নিজাম তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টা ১০ মিনিট। বাংলাদেশ প্রতিদিন অফিসে কাজ করার সময় বুকের বাম পাশে ব্যথা অনুভব করি। ব্যথার তীব্রতার কারনে ফোন করি হ্রদয়ের ডাক্তার রাকিবুল লিটুকে। তার পরামর্শে গেলাম অফিসের পাশে এ্যাপলো হাসপাতালের জরুরী বিভাগে। পরীক্ষা নিরীক্ষা চলাকালে কঠিন চেহারার এক যুবক এসে পাশে দাডালো। বললো, আপনার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। টাকা পয়সা লাগবে। টাকা আছে তো। বললাম, আমি বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক। যুবক আরও কঠোর কন্ঠে বললো, আমাদের নিয়ম আগে থেকে জানানো। কথা বাড়ালাম না। এর মাঝে ইসিজি চলছে। রক্ত পরীক্ষা হলো। ঘন্টা দুই পর তারা বললেন, ব্লাড প্রেশার অনেক। সাবধান হতে হবে। তবে আজ রাতে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখতে চাই। কারন হ্রদরোগ না হলেও সতর্কতার বিকল্প নেই। বিনীতভাবে বললাম, হ্রদরোগ যেহেতেু ধরা পড়েনি, বাসা চলে যেতে চাই। খারাপ লাগলে চলে আসবো। তারা একটা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছাড়লেন। আমি ভাবছি অন্যকথা। জরুরি বিভাগে আমার পর্যায়ের রোগীকে যখন প্রশ্ন করে টাকা পয়সা আছে তো? তখন সাধারণ মানুষের অবস্থাটা কি? আগে টাকা পয়সা, তারপর চিকিৎসা।”

নঈম নিজামের এই পোস্টে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

সাংবাদিক মাহমুদ হাসান লিখেছেন, “নঈম ভাই, আপনার পোস্টটা কয়েকবার পরলাম। আপনি বললেন দেশের অন্যতম বিশেষায়িত হাসপাতালের কথা। এমন একটি হাসপাতালের যদি এই চিত্র হয় তাহলে সাধারণ মানের হাসপাতালগুলো কি অবস্থা হবে? আপনাকে একটি অনুরোধ করব, দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকের সম্পাদক আপনি। সরকার. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নানা ছল চাতুরি থাকতে পা্রে দেশের চিকিতসা ব্যবস্থাকে আরো সহজলভ্য করতে। কিন্থু পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে যদি আপনি এই খাতের অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন প্রতিদিন প্রতিনিয়ত তা হলে হয়ত দেশের লাখ লাখ মানুষ এই মৌলিক অধিকারটি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পেত। বস্তাপচা রাজনীতির খবরে আপনার পত্রিকার মূল্যবান পৃষ্ঠা না ভরিয়ে স্বাস্থ্যখাতে একটি বিপ্লব ঘটিয়ে দিন। ধনী-গরীব প্রতিটি নাগরিক যেন শুধু চিকিতসার অভাবে এই পৃথিবী থেকে চলে যেতে না হয়। ধন্যবাদ। আপনার সুস্থতা কামনা করছি।”

আরও পড়ুন