বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে নিহত ১২: সংঘাত, ব্যালট ছিনতাই

Brammonbaria_UP Election-8প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক শত মানুষ।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর কর্মী ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন।

নির্বাচন চলাকালে দিনে দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও বিকালে ভোট গণনার সময় কেন্দ্রে হামলা ও ফল ছিনতাইয়ের সময় সংঘাত সংঘর্ষ হয়েছে বেশি।

এদিকে দিনের শুরু থেকে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেয়া হামলার অভিযোগ আসে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের হিড়িক পড়ে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের। শেষ দিকে নিরুত্তাপ পরিস্তিতি বিকালে পাল্টে যায় ভোট গণনার সময়।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ফল প্রকাশের আগে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কেন্দ্রে হামলা করলে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে ছয়জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। কক্সবাজারের টেকনাফে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী সমর্থক এবং পুলিশের ত্রিমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে দুই জনের। নেত্রকোনার খালিয়াজুড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন একজন। ঝালকাটি ও সিরাজগঞ্জে মারা গেছেন আরও দুই জন। কুমিল্লার দেবিদ্বারে মৃত্যু হয়েছে একজনের। এছাড়া এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েকশ’ জন।

বরিশাল ও পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, মঠবাড়িয়ার ধানিসাফা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিজিবি ও র‌্যাবের গুলিতে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ২৫জন। নিহতরা হলেন পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলার হরিণপালা গ্রামের আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে শাহাদাত (৩৫) ও সাইদুল মৃধার ছেলে কামরুল (২৫),  মঠবাড়িয়ার বুড়িরচরের ফজলুল হক ছেলে সোহেল (২৬), গফুর মোল্লার ছেলে বেল্লাল (৩০) ও আনু তালুকদারের ছেলে সোলায়মান (২৫)। নিহত আরও একজনের নাম জানা যায়নি। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানোর পথে বেল্লাল ও সোলায়মানের মৃত্যু হয়। এছাড়া ধানিসাফার  মনছের হকের ছেলে ইয়াসিন (২২) ও মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে মনছুর, মৃত কাশেম আলী হাওলাদারের ছেলে মো. ইউনুস ও মৃত ডা. শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে মো. সুমন হাওলাদারসহ অজ্ঞাত আহতদের বরিশাল, ভান্ডারিয়া ও  তুষখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ধানিসাফা ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশীদের ৭৪৬টি ব্যালট বাতিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তার কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে  প্রিজাইডিং অফিসারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ খবরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কাজী জিয়াউল বাসেতের নেতৃত্বে র‌্যাব ও বিজিবি সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময় জনতা তাদের গাড়ি অবরুদ্ধ করলে ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে বিজিবি ও র‌্যাব গুলি চালায় । এ ঘটনার পর মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, গুলিতে ছয় জন নিহত হয়েছেন। তবে মঠবাড়িয়ার থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান পাঁচ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেন।

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, টেকনাফের সাবরাংয়ে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গুলিতে দুই জন নিহত হন। ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। সাবরাং ইউনিয়নের ১ নং ও ৭ নং ওয়ার্ডে পৃথক এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের ৭ নং ওয়ার্ড কেন্দ্রে গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শাহপরীর দ্বীপ মাঝের পাড়ার দুদু মিয়ার ছেলে শফিক নামে এক যুবক নিহত হন। সন্ধায় মেম্বার প্রার্থী মো. সেলিম ও নুরুল আমিনের ভোট গণনাকালে এজেন্টের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এখবর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দুদু মিয়ার ছেলে শফিক (২৪) নিহত হন। একই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আল হোসাইনিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ফলাফল ঘোষণা না করে কেন্দ্র ত্যাগ করতে চাইলে প্রার্থীসহ কর্মী সমর্থক ও ভোটারগণ বাধা দেন। এসময় গুলিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুর  হোসেনে ভাই আবদুল গফুর (৩৪) ও আবদুস সালামের মেয়ে শেফা (১৮) আহত হন। টেকনাফ হাসপাতাল থেকে কক্সবাজার নেয়ার পথে আবদুল গফুর মারা যান। উভয় সংঘর্ষের ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা সদর ইউনিয়নের আধাউড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গুলিবিদ্ধ হয়ে গতকাল আবু কাউসার নামে একজন নিহত হয়েছেন। জেলার খালিয়াজুরী সদরের আধাউড়া কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী গোলাম আবু ইসহাকের সমর্থকরা জোর করে ভোট কেন্দ্রের ভিতর প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশের সাথে তাদের ধাক্কা ধাক্কির এক পর্যায়ে পুলিশ এক রাউন্ড সর্টগানের গুলি ছুড়ে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী গোলাম আবু ইসহাকের ভাই কাউসার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত সদস্যের সমর্থকদের হামলায় এক নারীর মৃত্যু এবং আরও ১০জন আহত হয়েছেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের জয়ানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  নিহত নোনাই বেগম (৫৫) ওই এলাকার ইনসাব আলীর স্ত্রী। হামলায় ৮/৯ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালেক নামে একজনকে বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, সরকার দলীয় প্রার্থীদের কেন্দ্র দখল ও হামলার মধ্যদিয়ে ঝালকাঠির ৩১ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। সকাল থেকেই অধিকাংশ কেন্দ্র সরকার দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিভিন্ন স্থানে হামলা পাল্টা হামলায় এজন নিহত ও পঞ্চাশ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে মারা যান একজন।

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে জানান, দেবিদ্বার উপজেলার কতেয়াবাদ ইউনিয়নে বড় কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে দুই জন আহত হন। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সোহেল নামে এক যুবক মারা যান।
সিলেট অফিস জানায়, সিলেটের কান্দিাগাও ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজ্জাদের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবির দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে ২০ জন। ভোট গণনার পরপরই পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজ্জাদের পক্ষের লোকজন ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিতে প্রিসাইডিং অফিসার সহ পুলিশের উপর হামলা চালায়। এ নিয়ে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে সাজ্জাদের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিজিবির গুলিতে এক যুবক গুরুতর আহত হন।

ব্যালট বাক্স ভাংচুর ছিনতাই
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, চাকামইয়া ইউনিয়নের চুঙ্গাপাশা এবতেদায়ী মাদরাসা কেন্দ্রে তিন শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা-তা-ব ভাংচুর চালিয়েছে। এ সময় মাদরাসার দরজা-জানালা-বেড়া কুপিয়ে তছনছ করা হয়। ভাংচুর করা হয় দুটি ব্যালটবাক্স। ছিনিয়ে নেয় একটি ব্যালট ভর্তি বাক্স। পরে পুলিশ প্রায় এক ঘণ্টা পরে ব্যালট বাক্সটি উদ্ধার করে। মঙ্গলবার ভোট চলাকালে আনুমানিক পৌনে নয়টার দিকে এ হামলা তা-ব চলে। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার একাডেমিক সুপারভাইজর মো. মনিরুজ্জামান জানান, তিন-চার শ’ সন্ত্রাসী চল, বন্দুক, লেজা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সাত রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে। কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এতে বিদ্ধ হয় মেম্বার প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল হক বুদাই, খলিল, শাহজালাল ও সাইদুল ইসলাম। এ ছাড়া আরও কয়েক জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

নালিতাবাড়ীতে আহত ১৩
নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি জানান, ইউপি নিবার্চন জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় অগতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় মরিচপুরান ও রাজনগর ইউনিয়নে ইউপি সদস্য প্রার্থীদের মাঝে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৩জন কর্মী সমর্থক। আহতদের জরুরিভাবে নালিতাবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাউফলে কেন্দ্র দখল ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল, ব্যালট কেড়ে নেওা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, প্রকাশ্যে সিল দিতে বাধ্য করা ও জালভোটের মতো নানা অনিয়মসহ ৭জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার পটুয়াখালীর বাউফলের ১১ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।

সকাল ৯টার দিকে প্রথমে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বগা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (ঘোড়া মার্কা) এএসএম ইউসুফ। অধিকাংশ কেন্দ্রে এজেন্টদের বসতে দেয়নি এমন অভিযোগ করেন তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব হাওলাদারের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এর পরে সকাল ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মো. আনিচুর রহমান রবের বিরুদ্ধে ইউনিয়নের সবকটি কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে  নির্বাচন বর্জন করেন ধুলিয়া ইউনিয়নের বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল জব্বার মৃধা। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন কেশবপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. তসলিম তালুকদার। এ ছাড়া কনকদিয়ার ইসলামী শ্বাসনতন্ত্র আন্দোলনের নজরুল ইসলাম (হাতপাখা মার্কা), কালিশুরীর ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রহমান রহম আলী, কনকদিয়ার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান হিরন, ও চন্দ্রদ্বীপের আওয়ামী লীগ দলীয় মো. আমির আলী।

দশমিনায় প্রকাশ্যে সিল
দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ২টি ইউনিয়নের পৃথক ৭টি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন প্রার্থী ও তাদের ক্যাডার বাহিনী কর্তৃক বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয়া এবং ভোট বাক্স ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ৩টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিতের মধ্য দিয়ে প্রথম দফায় দশমিনার ৫টি ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সরজমিনে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরজবেগী, সৈয়দজাফর, কাঁটাখালী, কেন্দ্রের আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সমর্থিত ক্যাডারা। আলীপুর ইউনিয়নের চান্দ্রারবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খলিশাখালী দাখিল মাদরাসা ও মধ্য খলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী এজেন্ট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয় দলীয় ক্যাডাররা।

মিরপুরে প্রকাশ্যে সিল, কেন্দ্র দখল
মিরপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার মিরপুরের কয়েকটি কেন্দ্রে জোরপূর্বক ব্যালটে সিল ও অন্যের ভোট মেরে নেয়ার মত বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। কোথাও কোথাও বেলা ১২টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় ভোট। ফুলবাড়ীয়া, আমলা, সদরপুর ও বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নে হয়েছে সিল মারার মহোৎসব। চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকের পাশাপাশি মেম্বর প্রার্থীরা নেমেছিলেন এ উৎসবে। এ অবস্থায় ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী  খোন্দকার টিপু সুলতান সকাল সাড়ে ১১টায় ভোট বর্জন করেছেন। ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বীজনগর, নওদাপাড়া ও কামিরহাটে হয় দফায় দফায় সংঘর্ষ। এ উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টার সময় একজন মেম্বর প্রার্থীর পক্ষে ১০০টি ব্যালটে সিল মেরে নেয়ার অভিযোগে প্রতিপক্ষ প্রার্থী প্রতিবাদ করলে ওই কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। অপরদিকে একই ইউনিয়নের শিমুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গেটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ১টার মধ্যে ভোট গ্রহণ প্রায় শেষ হয়ে যায়।

হাতিয়ায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ গুলিবিদ্ধ ৪
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই পৃথক হামলায় ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আবদুল আউয়াল ও পোলিং এজেন্ট আতিউর রহমানকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৭টায় তারা গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় তারা নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য হাতিয়ার চরকিং বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। পূর্ব দাসপাড়ার রাস্তায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে সকাল ৯টায় ওই কেন্দ্রে মামুন ও জুয়েল নামে আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন। সূত্র আরও জানায়, আহত মামুন ও জুয়েল নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ মহিউদ্দিন আহমেদের সমর্থক।

বেতাগীতে প্রার্থীসহ আহত ৩০
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনার বেতাগী সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের এক সদস্য প্রার্থীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষরা। আহত ব্যক্তিরা হলেন, সদস্য প্রার্থী বশিরুল আলম পলাশ, তার মামা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস, গোলাম মোস্তফা, জসিম উদ্দিন ও বশির। সূত্র জানায়, ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মো. কামাল হোসেন মৃধার নেতৃত্বে তার সমর্থকরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বশিরুল আলমের সমর্থকদের ওপর হামলা করে। হামলায় আহতদের বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রার্থী বশিরুল আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বেতাগী সদর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার স্বপন সাহা বলেন, এ ঘটনাটি জেনেছি। বেতাগী থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। অপরদিকে বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের অযোদ্ধা গ্রামে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. খালেক জোমাদ্দারের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে খোলপটুয়া কেন্দ্র দখল নিয়ে সকাল সাড়ে আটটার দিকে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়। এ সময় নৌকা প্রতীকের কর্মীরা গুরুতর আহত হয়।

সাতক্ষীরায় গুলিবিদ্ধ ২
সাতক্ষীরা/তালা প্রতিনিধি জানান, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোট কাটার সময় পুলিশের গুলিতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস ও তার ছোট ভাই রুহুল আমিন এবং এক মহিলা আহত হয়েছেন। সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা ইউনিয়নের ভাগবাহ এলাকায় মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রুহুল কুদ্দুস ও রুহুল আমিনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ভাগবাহ ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের ব্যালট পেপার কেটে বাক্স ভর্তি করছিল। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে তাদের ৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাটকেলঘাটা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্রকাটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপিতে বাধা দেয়ায় চার আনসার সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

বেড়ায় বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন
স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা থেকে জানান, কেন্দ্র দখল, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মারাসহ বেশ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে পাবনার বেড়া উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দুটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মাসুমদিয়া ইউনিয়নে বিএনপির ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছে। মঙ্গলবার মাসুমদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চাকলা ইউনিয়নের নলভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুশিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তারাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বানারীপাড়ায় ভোটকেন্দ্রে নিজের অস্ত্রের গুলিতে আনসার সদস্য নিহত
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিষারকান্দি ইউনিয়নের মুরারবাড়ি কেন্দ্রে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য নিজের অস্ত্রের গুলিতে নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনসার সদস্য আল আমিন (৪০) একই উপজেলার উমরের পাড় এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। বানারীপাড়া থানার ওসি জিয়াউল ইসলাম জানান, আনসার সদস্য আল-আমিন একটি থ্রি-নট থ্রি রাইফেল নিয়ে মুরারবাড়ি কেন্দ্রের সামনে একটি চেয়ারে বসে অন্যদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলো। রাইফেলটি লোড করা ছিল। অসাবধানতাবশত রাইফেলের ট্রিগারে তার হাতের চাপ পড়ে গেলে বিকট শব্দে একটি গুলি বের হয়। গুলিটি তার ডানহাতের কুনুই বরাবর ভেদ করে বামহাতের কুনুই বরাবর বিশাল মাংসপি- নিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলামিনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। আনসার সদস্য আল-আমিন নিজের অস্ত্রে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কিছু সময়ের জন্য বিঘ্ন ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

বরগুনায় সংঘর্ষে আহত ১৩, একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নে জালভোট দেয়ার সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ সময় জেলখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একদল সন্ত্রাসী ভোটকেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়। আহতদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ২ রাউন্ড গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

ওদিকে বরগুনার বামনা উপজেলার সদর ইউনিয়নে নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. এনায়েত কবির হাওলাদার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বামনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মোর্শেদ সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মনিরামপুরে বোমা বিস্ফোরণ
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, বোমা বিস্ফোরণ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা, জালভোট প্রদান, ভোটকেন্দ্র দখল, ভোট কাটাসহ বিচ্ছিন্ন অভিযোগের মধ্য দিয়ে যশোরের মনিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে প্রথমবারের মতো প্রথম ধাপে যশোরের মনিরামপুরে ১৬টি ইউনিয়নে (একটি ইউনিয়ন উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে) উল্লিখিত ঘটনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে জালভোটের মহোৎসব
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্র দখল, ধাওয়া, পালটা ধাওয়া, হামলা, সংঘর্ষ, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও আওয়ামী লীগের চেযারম্যান প্রার্থী ছাড়া অন্য সব চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্যে দিয়ে নির্বাচন শেষ হয়েছে। এদিকে কেন্দ্র দখল, জালভোট, এজেন্টদের মারধর করে বের, প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিনসহ বিএনপি, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় হাজিরহাট স্থানীয় প্রেস ক্লাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচন বর্জনকারীরা হলেন, পাটওয়ারীরহাট ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী জামাল উদ্দিন তালুকদার, চরফলকন ইউনিয়নে আবদুল অদুদ হাওলাদার, হাজিরহাট ইউনিয়নে ফরহাদ হোসেন, রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নে এহতেশামুল হক ও চরপোড়াগাছায় জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল পাশা। এছাড়া হাজিরহাটে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আক্তার হোসেন মিলন।

রায়গঞ্জে ব্যালট ছিনতাই
সিরাজগঞ্জ/রায়গঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দেড়াগাতি রুদ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মুড়ি রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট নিয়ে গেছে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনার সময় সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীর ব্যালট নেননি তারা। কেন্দ্রে কর্তব্যরত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হেলাল উদ্দিন জানান, একদল লোক আমার কেন্দ্রের বুথে ঢুকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর একটি ব্যালট বইয়ের মুড়ি রেখে সকল ব্যালট পেপার নিয়ে গেছে। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক কেন্দ্রের পদস্থ কর্মকর্তাদের অবগত করেছি। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শ্রী কমল চন্দ্র সাহা জানান, কেন্দ্রে ৩/৪টি বুথ থেকে সরকারদলীয় সমর্থকরা মুড়ি বই রেখে শুধু চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট পেপার জোরপূর্বক নিয়ে গেছে। আমরা আসলে অসহায়। তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছি।

সীতাকুণ্ড চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ গ্রেপ্তার ২
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার দলীয় প্রার্থী সমর্থকদের বিরুদ্ধে সহকারী রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর উল্টো বিএনপি প্রার্থীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার কুমিরা ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হেলাল উদ্দিন আদালতে হাজিরা দিতে গেলে জামিন নাকচ করে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। অপরদিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী যুবদল নেতা রোকন উদ্দিন মেম্বারকে সোমবার রাত ২টার দিকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে একদল সাদা পোশাকধারী পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে রোকন মেম্বারকে কোথাও পাচ্ছে না বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। এদিকে র‌্যাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে তারা এ নামে কাউকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেননি তারা।

আরও পড়ুন